ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আর্থিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্মগুলোর বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে জার্মানি ও ইতালি। গত ২৭ মার্চ প্রচারিত এক যৌথ আলোচনা পত্রে দেশ দুটি প্রস্তাব করেছে যে, যেসব বিদেশি ‘স্টেবলকয়েন’ (যেমন: ডলার-পেগড টোকেন) ইইউ-র কঠোর নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড পূরণ করতে পারবে না, তাদের ইউরোপীয় বাজার থেকে সরাসরি নিষিদ্ধ বা ‘অবরুদ্ধ’ করার ক্ষমতা দেওয়া হোক।
বিশেষ করে যেসব স্টেবলকয়েন অপারেটর ইইউ-র বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং যাদের রিজার্ভ বা তহবিলের নিরাপত্তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, তাদের জন্য এই প্রস্তাবটি একটি বড় বিপদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। যদি ইউরোপীয় কমিশন কোনো দেশের (যেমন যুক্তরাষ্ট্র) নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে ইইউ-র সমতুল্য মনে না করে, তবে সেই দেশের কোনো স্টেবলকয়েন অপারেটর ইউরোপে ব্যবসা করতে পারবে না।
এই প্রস্তাবের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ‘কিল সুইচ’ ক্ষমতা। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যদি কোনো স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান তার রিজার্ভ ট্রান্সফারে ব্যর্থ হয় কিংবা ইইউ টোকেন হোল্ডারদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, তবে ইউরোপীয় ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ (ইবিএ) সরাসরি সেই মুদ্রার কার্যক্রম বন্ধ বা ‘প্লাগ টেনে’ দেওয়ার ক্ষমতা পাবে।
জার্মানি ও ইতালির উদ্বেগের মূল কারণ হলো, যদি কোনো মার্কিন ফার্মের স্টেবলকয়েন সংকটে পড়ে এবং তার রিজার্ভের টাকা কেবল আমেরিকান ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আটকে থাকে, তবে ইউরোপীয় গ্রাহকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন। এই ঝুঁকি এড়াতে ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে কড়া তদারকি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। মূলত বড় বড় ডলার-সমর্থিত ক্রিপ্টো ফার্মগুলোকে ইউরোপের কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনাই এখন বার্লিন ও রোমের প্রধান লক্ষ্য।


