ইউরোপের জ্বালানি মানচিত্রে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এখন এক দোটানার নাম। একদিকে শত বছরের খনি ঐতিহ্যের আবেগ, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের কঠোর শর্ত ও কার্বন শুল্কের খড়্গ। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া ‘কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম’ দেশটির উচ্চ-কার্বন নিঃসরণকারী রপ্তানি খাতের ওপর বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। সারায়েভোতে ইইউ প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র ফার্ডিনান্ড কোয়েনিগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “সিবিএএম-এর বাধ্যবাধকতা থেকে বসনিয়ার জন্য কোনো ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই।”
বসনিয়ার মোট রপ্তানির প্রায় ১৫ শতাংশই লোহা, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং বিদ্যুৎ খাতের ওপর নির্ভরশীল। নির্গমন তথ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে এই খাতগুলোকে চড়া আইনি ফি এবং বাণিজ্যে বাধার সম্মুখীন হতে হবে। কোয়েনিগ সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু নীতিতে স্থবিরতার অর্থ হলো দেশটি ইইউ সদস্যপদের জন্য এখনও অপ্রস্তুত। এর ফলে কেবল পরিবেশ নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও হারাচ্ছে বসনিয়া।
সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের জন্য ইইউ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বসনিয়াকে ৩৩৫ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অনুদান ও ঋণ বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র আধুনিকীকরণ এবং দুটি বিশাল বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া ‘প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা’র অধীনে ৯৭৬.৬ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত তহবিল পাওয়ার সুযোগ থাকলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন প্রণয়নে বিলম্বের কারণে সংস্কার কর্মসূচি থমকে আছে।
বসনিয়ার খনি ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু ১৮৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জেনিকা খনি বা ‘স্তারা জামা’ (পুরানো খাদ) এখন বন্ধ হওয়ার পথে। এক সময় হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান থাকলেও এখন সেখানে কেবল জনাকয়েক অবশিষ্ট আছেন। খনির পরিচালক মিরসাদ শাহবাজোভিচ জানান, ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত উত্তোলনের দড়িটি কেটে দেওয়ার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। খনিটি এখন ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে, আর শ্রমিকদের কেউ অবসর নিচ্ছেন, কেউবা পাওনা বুঝে নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপের অন্য দেশে।


