পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের আভেনিদা দে বার্লিম এলাকায় ছিনতাইয়ের পর ভুক্তভোগীদের ধাওয়ার মুখে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই একটি বড় ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। লিসবনের রাস্তায় দুই ব্যক্তি যখন মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন, তখন আচমকাই একটি গাড়ির সঙ্গে তাদের ধাক্কা লাগে। মোটরসাইকেলের আরোহী ও চালক নিচে নেমে এলে আরেকটি মোটরসাইকেলে চড়ে এক অস্ত্রধারী সেখানে উপস্থিত হয় এবং তাদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে হুমকি দেয়।
ছিনতাইকারীরা ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা) মূল্যের দুটি দামী ব্র্যান্ডের ঘড়ি এবং একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিরা হাল না ছেড়ে নিজেদের গাড়ি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া শুরু করেন। কিন্তু তীব্র গতিতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আভেনিদা দে বার্লিম এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজক বা ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীর মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনাকবলিত হয়। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক ছিনতাইকারী মারা যায়।
তবে মোটরসাইকেলে থাকা অপর আরোহীসহ বাকি ৩ জন ছিনতাইকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। পর্তুগালের বিশেষায়িত ‘জুডিশিয়াল পুলিশ’ এই ছিনতাই ও মৃত্যুর ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা লিসবনে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অন্যান্য চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে এই চক্রটির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
গত সপ্তাহান্তে পর্তুগালের পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ সংবাদ সংস্থা লুসা-কে জানিয়েছিল যে, লিসবনে বিলাসবহুল ঘড়ি ছিনতাইয়ের দুটি বড় ধরনের অভিযোগ পেয়েছেন তারা।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার দুপুরের দিকে ‘ইনটেনডেন্ট’ মেট্রো স্টেশনে। সেখানে দুই ছিনতাইকারী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫২,০০০ ইউরো মূল্যের একটি অত্যন্ত দামী লাক্সারি ঘড়ি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এরপর রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরেকটি একই ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে লিসবনের বিলাসবহুল সড়ক ‘আভেনিদা দা লিবারদাদে’-তে। সেখানে এক ব্যক্তির হাত থেকে ১৮,০০০ ইউরো মূল্যের একটি ঘড়ি ছিনিয়ে নিয়ে দুই সন্দেহভাজন একটি গাড়িতে চড়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে যে—মৃত ছিনতাইকারী এবং তাঁর পলাতক সঙ্গীরা লিসবনের কুখ্যাত ‘রোলেক্স গ্যাং’-এর সদস্য কি না এবং এই সবকটি ঘটনা একই চক্রের কাজ কি না। দোষীদের সনাক্ত করতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে গোয়েন্দা বিভাগ।


