পর্তুগালের ক্ষমতাসীন দল পিএসডি-র অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা এবং লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাস স্পষ্ট জানিয়েছেন যে—সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বন্দ্বে জড়ানোর ইচ্ছা তাঁর নেই। তিনি শুধু তিন মাস আগে সরকারকে দেওয়া তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লিসবনের জন্য অতিরিক্ত ২০০ জন পুলিশ অফিসার দ্রুত মোতায়েন করার দাবি জানাচ্ছেন।
মেয়রের এই দাবির বিপরীতে সম্প্রতি পিএসপি পুলিশের প্রধান লুইস ক্যারিলহো এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে—আপাতত স্বল্পমেয়াদে এই অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মেয়র মোয়েদাস এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘২০১০ সালের পর থেকে লিসবনের জনসংখ্যা ১ লাখের বেশি বেড়েছে, অথচ একই সময়ে পুলিশের সংখ্যা ২,০০০ জন কমে গেছে।’ তিনি সাফ বলেন, ‘আমাদের কেবল ২০০ জন পুলিশের ঘাটতি নেই; আমাদের লিসবনে ২,০০০ জন পুলিশের ঘাটতি রয়েছে। এটিই বাস্তব চিত্র এবং এই পরিসংখ্যান সবার সামনে আসা উচিত।’
মেয়র স্বীকার করেন যে, এই লড়াইটি কেবল তাঁর একার নয়, বা কোনো স্থানীয় প্রশাসনের একার নয়, বরং এটি পুরো দেশের লড়াই। তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের সঙ্গে কোনো যুদ্ধে নামিনি, কোনো মন্ত্রীর সঙ্গেও আমার বিরোধ নেই। আমার একটাই লক্ষ্য—লিসবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমরা সবাই এই লক্ষ্য অর্জনে একমত এবং আমাদের সেই পথেই এগোতে হবে।’
মেয়র বলেন, সামগ্রিকভাবে লিসবন এখনো একটি ‘নিরাপদ শহর’। তবে দুই বছর আগে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর মনে যে মৃদু উদ্বেগ ছিল, তা এখন চরম আশঙ্কায় রূপ নিয়েছে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২২ সালের কথা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, যখন আমি নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলায় আমাকে তীব্র সমালোচনা, আক্রমণ এবং এমনকি অপমান করা হয়েছিল। আমি যখন লিসবনের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতাম, সবাই আমার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল এবং আমাকে বলত—নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলবেন না, এটি কেবল উগ্র ডানপন্থীদের আলোচনার বিষয়।’
লিসবনে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি বড় অপরাধের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেয়র বলেন, আমাদের আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থার কোথাও বড় ধরনের গলদ বা ‘ভুল হচ্ছে’।
তিনি বলেন, ‘যখন লিসবনের ডাউনটাউনে দিনে-দুপুরে এক নারী গুলিবিদ্ধ হন এবং গুলি চালানো অপরাধী এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তখন বুঝতে হবে আমাদের দেশে কোথাও বড় ধরনের ভুল হচ্ছে। আবার যখন এক ব্যক্তির রোলেক্স ঘড়ি ছিনতাই হওয়ার পর তিনি নিজেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অপরাধীকে ধাওয়া করে মেরে ফেলেন, তখনও বুঝতে হবে আমাদের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের ভুল হচ্ছে।’ মেয়রের এই মন্তব্যের পর উপস্থিত দর্শকেরা করতালির মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
শহরের কেন্দ্রস্থলে ভুয়া বা নকল মাদক বিক্রেতাদের গ্রেপ্তারের পর সহজেই ছেড়ে দেওয়ার আইনের তীব্র বিরোধিতা করেন মেয়র। তিনি অবিলম্বে এই আইন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন, তাদেরও সাধারণ মাদক চোরাকারবারীদের মতোই কড়া শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি যোগ করেন, ‘কারণ শক্ত আইন ছাড়া কেবল পেশীশক্তি বা গায়ের জোরে সমাজ চলবে। আর আইন-শৃঙ্খলা না থাকলে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় মানুষেরা ঘর থেকে বের হতেই ভয় পাবেন।’


