পর্তুগালে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী আসলেও বিদেশে পাড়ি জমানো পর্তুগিজ নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছে না সরকার। দেশটির সবচেয়ে কম জনসংখ্যার জেলা পোর্তালেগ্রেতে এই দুই বিপরীত বাস্তবতা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে পালিয়ে শরণার্থী হিসেবে পোর্তালেগ্রেতে আশ্রয় নিয়েছেন এক নারী। যুদ্ধে তিনি স্বজন হারিয়েছেন, আর তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছেলে এখনো ইউক্রেনেই রয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তিনি এখন পর্তুগালে নতুন জীবন শুরু করেছেন।
গত দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে অ্যাঙ্গোলা ও ব্রাজিল থেকেও পোর্তালেগ্রেতে এসেছেন কয়েকজন নারী। তাঁদের আসার কারণ ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই—আরও ভালো জীবন ও উন্নত ভবিষ্যৎ।
বিদেশি কর্মীদের বড় একটি অংশ কাজ পাচ্ছেন সামাজিক সেবা খাতে। পোর্তালেগ্রের সান্তা কাসা দা মিজেরিকোরদিয়ায় কর্মরত এসব অভিবাসী স্থানীয় শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তবে অভিবাসী ও স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়ছে আবাসন খাতেও। গত এক বছরে পর্তুগালের যেসব জেলায় বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, পোর্তালেগ্রে তার মধ্যে অন্যতম।
স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বিদেশি শ্রমিকের ওপর ক্রমেই নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। পোর্তাজেমের সেভের রেস্তোরাঁয় কর্মরত ১৪ জনের অর্ধেকই বিদেশি। তবে মৌসুমি কাজ হওয়ায় এসব কর্মীকে সারা বছর এলাকায় ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও পর্তুগাল ছাড়ার পরিকল্পনা নেই অনেক অভিবাসীর। পাকিস্তানি নাগরিক আদনান এখন তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে পর্তুগালে এনে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।
অন্যদিকে দেশ ছেড়ে যাওয়া পর্তুগিজদের অনেকেই ফেরার কথা ভাবছেন না। পেদ্রো পাঁচ বছর আগে লুক্সেমবার্গে পাড়ি জমান এবং তিন বছর আগে সেখানে পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে যান। জন্মভূমিতে ফিরে আসা এখন তাঁর পরিকল্পনার অংশ নয়।
পর্তুগালের এই চিত্রে এক ধরনের বৈপরীত্য স্পষ্ট—দেশটি নতুন অভিবাসীদের আকর্ষণ করছে, কিন্তু বিদেশে চলে যাওয়া নিজেদের নাগরিকদের ফেরাতে পারছে না। আর দুই পক্ষের সিদ্ধান্তের পেছনেই রয়েছে একই আকাঙ্ক্ষা—একটি ভালো জীবনের সন্ধান।


