ফ্রান্সের সরকারি ঋণ চলতি বছর ১৯৭৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। বাজেট ঘাটতি বাড়তে থাকায় ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১১৯ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাবে। ২০২৭ সালে তা আরও বেড়ে ১২১ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ৬০ শতাংশ।
ফ্রান্সের পরিসংখ্যান সংস্থা ইনসির তথ্য অনুযায়ী, ঋণের এই মাত্রা ১৯৭৮ সালের পর নজিরবিহীন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, উচ্চ বাজেট ঘাটতির কারণে ফ্রান্সের ঋণ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাড়ছে।
ইউরোজোনে ঋণের দিক থেকে গ্রিস ও ইতালির পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে, স্পেনের সরকারি ঋণ জুলাইয়ে জিডিপির ১০০ শতাংশের নিচে নেমেছে। পর্তুগালের ঋণও ২০২৫ সালে ৯০ শতাংশের নিচে নেমে আসে।
ইইউর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের সরকারি বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে গত বছর ফ্রান্সের ঘাটতি ছিল জিডিপির ৫ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বছর তা বেড়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সরকার।
উচ্চ ঘাটতির কারণে গত দুই বছর ধরে ইইউর বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে ফ্রান্স। আগামী বছর ঘাটতি কমিয়ে ৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। একই বছর দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট ও সরকার নির্বাচনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৭ সালে ৫৪ বিলিয়ন ইউরোর কাটছাঁট
২০২৭ সালের বাজেটের খসড়া প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্বাধীন আর্থিক পর্যবেক্ষক সংস্থা হাই কাউন্সিল অব পাবলিক ফাইন্যান্সেসের (এইচসিএফপি) কাছে পাঠিয়েছে সরকার। সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসব প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত, তা মূল্যায়ন করবে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার বাজেটের খসড়া তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, ২০২৭ সালের বাজেটে ৫৪ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৬২ বিলিয়ন ডলারের সমন্বয় ও ব্যয় কাটছাঁটের পরিকল্পনা করছে সরকার।
তবে সামনে নির্বাচন থাকায় অবসরপ্রাপ্তদের কর-সুবিধা কমানোর মতো স্পর্শকাতর কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়টি পার্লামেন্টের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
পার্লামেন্টের অর্থবিষয়ক কমিটির প্রধান ইতোমধ্যে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, বাজেট কাটছাঁটের প্রভাব সমাজের সব শ্রেণির ওপর পড়বে এবং এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন নিম্নআয়ের মানুষ।
এইচসিএফপির প্রধান অ্যামেলি দ্য মনশালাঁ অবশ্য বলেছেন, পরিস্থিতি সংশোধনের এখনও সময় রয়েছে। তাঁর ভাষায়, সংকট অনিবার্য নয়। দ্রুত ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ফ্রান্সের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।
এদিকে, দুর্বল ভোক্তা ব্যয় এবং সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে ফ্রান্স।


