ছুটি কাটানোর জন্য বিশ্বের সবচেয়ে সুখকর বা আনন্দের শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম ‘বুকরিট্রিটস’-এর তৈরি ‘হলিডে হ্যাপিনেস ইনডেক্স’-এ বিশ্বের ৪৭টি শহরের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে এই ইউরোপীয় নগরী। পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শহরটির পরিবেশ ও জীবনযাত্রা এটিকে তালিকার এক নম্বরে নিয়ে এসেছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ন্যাটালি ড্যাটিলো-রায়ানের তত্ত্বাবধানে এই বৈশ্বিক সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়। এতে পাঁচটি মৌলিক বিষয়কে মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে—প্রচুর সূর্যালোক, পায়ে হেঁটে চলাচলের সুবিধা, স্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা, ভালো ঘুমের পরিবেশ এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই উপাদানগুলো মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরে স্বাভাবিকভাবেই সুখ সৃষ্টিকারী হরমোনগুলোকে সক্রিয় করে তোলে।
লিসবনের শীর্ষস্থান পাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে এখানকার স্বাস্থ্যকর খাবার। সমীক্ষা অনুযায়ী, লিসবনের রেস্তোরাঁগুলোর প্রায় ১০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় পড়ে, যা প্যারিস, টোকিও কিংবা নিউইয়র্কের মতো বৈশ্বিক শহরগুলোর চেয়েও এগিয়ে। টাটকা সামুদ্রিক খাবার থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী সরাইখানা—সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত খাবার পাওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে শহরটিতে। এর পাশাপাশি উঁচু-নিচু পথ থাকা সত্ত্বেও লিসবন শহরটি সহজে পায়ে হেঁটে ঘোরার জন্য বেশ উপযোগী।
প্রকৃতি ও সবুজের উপস্থিতিও শহরটিতে দারুণ। লিসবনে প্রতিজন বাসিন্দার জন্য গড়ে ৪৯ বর্গমিটার সবুজ জায়গা রয়েছে, যা স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি। এছাড়া গণপরিবহনে মাত্র এক ঘণ্টারও কম সময়ে কাসকাইস এবং কোস্তা দা কাপারিকার মতো বিখ্যাত সমুদ্র সৈকতগুলোতে পৌঁছে যাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, লিসবনে বছরে গড়ে প্রায় ২,৮২৮ ঘণ্টা ঝকঝকে সূর্যালোক পাওয়া যায়, যা যেকোনো পর্যটকের মন ভালো করে দেওয়ার জন্য দারুণ এক নিয়ামক।
লিসবন ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক আন্তোনিও ভালে বলেন, ‘লিসবন অন্য যেকোনো গন্তব্যের চেয়ে আলাদা। এর নিজস্ব রূপ বজায় রেখে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের জন্য সেরা অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি। শান্ত পরিবেশ ও চমৎকার গণপরিবহনের এই শহরে প্রতি ব্যক্তির জন্য প্রায় ১২৬ বর্গমিটার সবুজ স্থান রয়েছে, যা হংকংয়ের চেয়ে ৫০ গুণেরও বেশি।
শীর্ষ তিনে জায়গা পাওয়া একমাত্র ইউরোপ-বহির্ভূত শহর হলো যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো। বিশ্বখ্যাত ডিজনিল্যান্ড ও ইউনিভার্সাল স্টুডিওর পাশাপাশি বছরে ২,৯৩০ ঘণ্টা সূর্যালোক পাওয়ায় শহরটি তৃতীয় স্থান পেয়েছে।
বুকরিট্রিটসের তালিকায় এর পরের স্থানগুলোতে থাকা শহরগুলো হলো যথাক্রমে এথেন্স (চতুর্থ), এডিনবার্গ (পঞ্চম), মাদ্রিদ (ষষ্ঠ), ভিয়েনা (সপ্তম), বুদাপেস্ট (অষ্টম), অসলো (নবম) এবং লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াস (দশম)।


