পর্তুগালের পোর্তো শহরে রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা কমিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পার্কিং সুবিধা অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নতুন পার্কিং নীতি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র পেদ্রো দুয়ার্তে।
মেয়র বলেন, নতুন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে রাস্তার পাশে পার্কিংয়ের জায়গা কমানো এবং শহরের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া। এর ফলে পোর্তোর বাইরে থেকে আসা ব্যক্তি কিংবা নিজ এলাকার বাইরে গাড়ি নিয়ে যাওয়া মানুষের জন্য পার্কিং করা আরও কঠিন হবে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষিত পার্কিংয়ের সুযোগে পার্থক্য রয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুয়ার্তে বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন পার্কিং নীতির লক্ষ্যই হলো এ ধরনের বৈষম্য দূর করা। এলাকার ভিত্তিতে নয়, পুরো শহরের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মেয়র জানান, সিটি কর্তৃপক্ষ রাস্তার পাশে পার্কিংয়ের জায়গা বাড়াবে না; বরং এসব জায়গা কমানোর চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ ও বহুতল পার্কিং সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
পার্কিং নিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন চুক্তিও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, পোর্তোর বাসিন্দারা যেন অন্য পৌরসভা থেকে আসা ব্যক্তিদের তুলনায় কম পার্কিং ফি দিতে পারেন, সে জন্য আইনি কাজ চলছে।
পোর্তো শহরে বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় পার্কিং ব্যবস্থাপনার ধরন আলাদা। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পার্কিংয়ের চারটি অঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইপোর্তোর অধীনে এবং একটি পৌর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
পার্কিং নীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতেও স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেয়র। ঐতিহাসিক শহরকেন্দ্রের কিছু অংশে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে পুরো ঐতিহাসিক কেন্দ্রে গাড়ি চলাচল বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে জানান দুয়ার্তে। কারণ, রিবেইরা সুড়ঙ্গ শহরের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এলাকাটিকে আরও পথচারীবান্ধব ও আরামদায়ক করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
আলফান্দেগা এলাকায় নদীর ঠিক পাশেই থাকা পার্কিংয়ের জায়গা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন মেয়র। তাঁর ভাষায়, শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটিতে এমন পার্কিং থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। সেখানে পার্কিং ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া সেঁ, বনজিম, মিগেল বোমবার্দা, বাতালিয়া ও তিতো ফন্তেস এলাকায় নতুন পাঁচটি নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল অঞ্চল তৈরির কাজ চলছে। এগুলো চালু হলে শহরে এ ধরনের অঞ্চলের সংখ্যা ১০টিতে দাঁড়াবে।
গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও ছয় কিলোমিটার বাস চলাচলের জন্য আলাদা লেন চালু করা হবে। এতে শহরে বাসের জন্য নির্ধারিত লেনের মোট দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ২১ কিলোমিটার হবে।
এ ছাড়া বাস চলাচলের জন্য নির্ধারিত লেনে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। গত বছরের আগস্টে যেখানে ৫০৮টি জরিমানা করা হয়েছিল, চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে।
ফেরনাও দে মাগালহায়েস সড়ক থেকে শুরু করে শহরের অন্যান্য এলাকাতেও এমন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাস কাছাকাছি এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবুজ বাতি জ্বলে উঠবে—এমন সেন্সরযুক্ত ট্রাফিক বাতি বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
আবাসিক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করা ‘৩০ নেটওয়ার্ক’ আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বর্তমানে এ ব্যবস্থাকে মূলত সচেতনতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও ২০২৭ সালের শুরুতে পুরো শহরে রাডারভিত্তিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।
মেয়র বলেন, অনেক পরিবার, ব্যবসা ও পেশাজীবীর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ। তাই গাড়ির বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেওয়া হচ্ছে না। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির তুলনায় গণপরিবহন ব্যবহারকে আরও সুবিধাজনক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।


