ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মুখে পর্তুগালে জ্বালানি তেলের ব্যবহার অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সরকার। পর্তুগালের পরিবেশ ও জ্বালানিমন্ত্রী মারিয়া দা গ্রাসা কারভালহো নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সরকার প্রকৃত সংকটাপন্ন মানুষদের কাছে কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে।
কোইম্ব্রা অঞ্চলের সুরে (Soure) এলাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে পেট্রোল ও বিমানের জ্বালানির (জেট ফুয়েল) ব্যবহার প্রায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটনের প্রসারের কারণে বিমানের জ্বালানি ব্যবহার বাড়লেও, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখে অভ্যন্তরীণ এই বাড়তি ভোগ সরকারের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রীর এই সতর্কবার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি ইউরোপের বাজারে আগামী অক্টোবরের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে প্রতিবেশী ফ্রান্সে ইতিমধ্যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে; সরবরাহ ঘাটতির কারণে দেশটিতে প্রায় ১৬ শতাংশ পেট্রোল পাম্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আসন্ন শীত এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের জরুরি তেল সরবরাহ নীতি ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবার জন্য ঢালাওভাবে সহায়তা না দিয়ে কেবল নিম্ন আয়ের পরিবার এবং যারা কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন গাড়ি চালাতে বাধ্য হন, তাঁদের কাছেই সরকারি প্রণোদনা দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি, কোম্পানি কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান—সবারই সাধারণ বিদ্যুৎ ও বিশেষ করে জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে। যতদূর সম্ভব আমাদের কেবল জরুরি প্রয়োজনেই জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে, কারণ এটি একটি সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ এবং আমাদের তা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’
তবে স্বস্তির তথ্য দিয়ে মন্ত্রী জানান, পর্তুগালে বিমানের জ্বালানির কৌশলগত মজুত গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশেরও বেশি রয়েছে। এছাড়া এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে জাতীয় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শীর্ষ সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করছে লিসবন।
তিনি জানান, আলজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী খুব শিগগিরই পর্তুগাল সফরে আসছেন এবং ব্রাজিলের নির্বাচন শেষ হলেই দেশটির সঙ্গে পুনরায় দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হবে। আলজেরিয়া ও ব্রাজিলের পাশাপাশি নাইজেরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—এই চারটি দেশ থেকেই মূলত পর্তুগাল তাদের প্রয়োজনীয় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করে থাকে। বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে এই দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।


