ফুটবল ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে মদপানের ওপর চার দশক ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি বলেছেন, রাগবি বা ক্রিকেট ভক্তরা গ্যালারিতে বসে অ্যালকোহল পানের সুযোগ পেলেও কেবল ফুটবল সমর্থকদের এ থেকে বঞ্চিত রাখা এক ধরনের ‘বৈষম্য’।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সম্মেলন কাভার করা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বার্নহ্যাম এই বৈষম্য দূর করার তাগিদ দেন। তিনি জানান, প্রয়োজনে পরীক্ষামূলক বা ট্রায়াল ভিত্তিতে এই আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
১৯৮৫ সালে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং পরবর্তীতে ঐতিহাসিক হিলসবরো ট্র্যাজেডি সংক্রান্ত ‘টেইলর রিপোর্ট’-এর সুপারিশ অনুযায়ী ইংল্যান্ডে ফুটবল মাঠের সামনে বসে মদপান বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আগে গত জুলাইয়েও প্রধানমন্ত্রী এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে পুনর্বিবেচনার কথা বলেছিলেন।
সাংবাদিকদের অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, ‘ফুটবল ভক্তদের এভাবে আলাদা করে চিহ্নিত করা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। যে সময়ে এই আইন হয়েছিল, তখনকার ফুটবলের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আমি বিশ্বাস করি এই বৈষম্য দূর করার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। এটি হয়তো পরীক্ষামূলকভাবে করা যেতে পারে। অন্য খেলার সমর্থকদের তুলনায় ফুটবল ভক্তদের সাথে আলাদা আচরণ করাকে আমি কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না।’
উল্লেখ্য, স্কটল্যান্ডে ১৯৮১ সাল থেকে স্টেডিয়ামে মদপান পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকলেও সম্প্রতি ম্যাচ শুরুর আগে সমর্থকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে অ্যালকোহল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে হ্যাম্পডেন পার্কে জাপান ও কুরাকাওয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলের ম্যাচে এই ছাড় দেওয়া হয়।
ফুটবল সমর্থকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (এফএসএ) প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। এফএসএ-এর চেয়ারম্যান টম গ্রেট্রেক্স বলেন, ‘একই আসনে বসে মানুষ যখন রাগবি বা কোনো কনসার্ট উপভোগের সময় পানীয় পান করতে পারে, তখন ম্যাচ দেখার সময় সাধারণ ফুটবল ভক্তদের অপরাধী বানানো অন্যায়। উইমেন্স সুপার লিগসহ বিভিন্ন লিগেও এটি সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।’
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে ফুটবল ম্যাচ তদারকির দায়িত্বে থাকা পুলিশ বিভাগ। তাদের মতে, আইন পরিবর্তনের এই উদ্যোগ হবে ‘চরম অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত’।
ইউকে ফুটবল পলিসিং ইউনিট (ইউকেএফপিইউ)-এর এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, ‘অন্যান্য খেলার তুলনায় ফুটবলে সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ঘটনা বেশি দেখা যায়, যার পেছনে অ্যালকোহল বড় ভূমিকা পালন করে। এমন বাস্তবতায় মাঠে আরও বেশি মদপানের সুযোগ করে দেওয়া সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হবে।’
মুখপাত্রটি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৮০-এর দশকের বেশ কিছু বড় ট্র্যাজেডির পর এই আইন হয়েছিল বলেই গত কয়েক দশকে কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেনি। তাই পুলিশ ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং বাস্তব তথ্য যাচাই না করে এমন মৌলিক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে।


