ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) বিশ্বব্যাপী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতির দিকে না ঝুঁকে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলাই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক মোকাবিলার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হতে পারে।
লিসবনে ইইউ-মারকোসুর চুক্তিবিষয়ক এক সেমিনারে আজ বক্তব্য দেওয়ার সময় পাওলো রাঙ্গেল বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া।
যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যদি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্ত হয়,’ তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো শুল্ক কমাতে এবং আরও উন্মুক্ত বাণিজ্য নীতি গ্রহণে চাপের মুখে পড়বে।
রাঙ্গেল যুক্তরাষ্ট্রকে সংরক্ষণবাদী নীতি অনুসরণকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পর্তুগালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনও অত্যন্ত মূল্যবান একটি মিত্র এবং ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর এই প্রস্তাবটি মূলত ওয়াশিংটনের শুল্ক নীতিকে কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলার একটি প্রয়াস—যেখানে বাণিজ্য বাধার ওপর অন্যদের ছেড়ে না দিয়ে বরং অধিকসংখ্যক দেশকে নিবিড় বাণিজ্যিক সম্পর্কের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ইইউ-মারকোসুর চুক্তি একটি আদর্শ উদাহরণ হতে পারে। গত ১ মে থেকে এর বাণিজ্যিক বিধানগুলো সাময়িকভাবে কার্যকর হয়েছে, যা ইইউ এবং দক্ষিণ আমেরিকান জোটভুক্ত চারটি দেশ—ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের প্রায় ৭০ কোটি মানুষের একটি বিশাল বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি করেছে।
রাঙ্গেল উল্লেখ করেন, পর্তুগালের কাছে অর্থনৈতিক সুবিধার বাইরেও এই চুক্তির একটি বড় রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। ইউরোপের অভ্যন্তরে এই চুক্তির বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যকার দৃঢ় সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই দুই অঞ্চলকে একসঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করবে বলে যুক্তি দেন তিনি।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের (এসিয়ান) সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি করতে ইইউর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এই অঞ্চলটিকে ‘উপেক্ষা করা যায় না’ বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পৃথক এক ঘোষণায় রাঙ্গেল জানান, ২০২৯-৩০ মেয়াদের জন্য আইবেরো-আমেরিকান সম্মেলনের আবর্তনশীল সেক্রেটারিয়েটের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পর্তুগাল। সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করা হবে।


