আবাসন অধিকার আন্দোলনের বিক্ষোভের কারণে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের রসিও চত্বর পরিষ্কারে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়ে সিটি কাউন্সিলের বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন মেয়র কার্লোস মোয়েদাস।
বুধবার সকালে বৈঠকে বিরোধী দলের সদস্যরা এ ব্যয়ের হিসাব নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন। এ পর্যন্ত পরিষ্কারের খরচ হিসেবে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের কথা বলেছেন মেয়র। সম্প্রতি সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইউরো বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে রসিও চত্বরে তাঁবু স্থাপনের বৈধতা নিয়ে চলতি সপ্তাহে আদালতের এক বিচারকের পর্যবেক্ষণের পর। তাঁবু স্থাপনের বিরুদ্ধে সিটি কাউন্সিলের আবেদনে ১ লাখ ইউরোর বেশি ব্যয়ের দাবি করা হলেও বিচারক বলেছেন, এ দাবির পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যথেষ্ট নয়।
বিরোধী দলের সদস্যদের দাবি, শুরুতে মেয়র ১ লাখ ইউরোর বেশি ব্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন। অথচ একই ধরনের কাজের জন্য পুরো বছরের যে চুক্তি রয়েছে, পরিষ্কারের খরচ তার প্রায় অর্ধেক হওয়ায় তাঁরা বিস্ময় প্রকাশ করেন।
পরে মেয়র জানান, প্রকৃত ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। সর্বশেষ সেই হিসাব আরও ২০ হাজার ইউরো বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইউরো করা হয়েছে।পর্তুগালের সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও দে নোতিসিয়াসের (ডিএন) প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাজতন্ত্রী দলের কাউন্সিলর পেদ্রো আনাস্তাসিও এবং বামপন্থী দল লেফট ব্লকের রিকার্দো মোরেইরা এ ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, মেয়রের দেওয়া হিসাব তাঁরা বিশ্বাস করছেন না।
এ সময় মেয়র বৈঠক স্থগিত করেন। নিজের দেওয়া তথ্য নিয়ে মিথ্যা বলার ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশের পর তিনি সভাস্থল ত্যাগ করেন। ডিএন ঘটনাটিকে বিরল পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেয়রের অনুপস্থিতিতেই বৈঠক আবার শুরু হয়। বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত সিটি কাউন্সিলের কার্যপ্রণালির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না—এ যুক্তিতে বিরোধীদের আনা একটি প্রস্তাব ভোটে তোলা হয়। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মেয়রের দল এসডিপি, সিডিএস-পিপি ও আইএলের কাউন্সিলররা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
লুসা সংবাদ সংস্থাকে পাঠানো এক বিবৃতিতে সমাজতন্ত্রী কাউন্সিলর আনাস্তাসিও বলেন, মেয়রের নিজের বক্তব্যের জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে বড় সমস্যা রয়েছে এবং তিনি তা সহ্য করতে পারেন না।তিনি আরও বলেন, ‘মূর্তি থেকে গ্রাফিতি পরিষ্কারের খরচ কত হয়েছে, তা মেয়র ব্যাখ্যা করতে পারছেন না।’ এর আগে মেয়র এ কাজের ব্যয় প্রায় ১ লাখ ইউরো বলে জানিয়েছিলেন।


