২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে পর্তুগালের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রশংসা করেছে ফিফা। দেশটির তিনটি প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের মধ্যে দুটি পরিদর্শন শেষে এ মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
মঙ্গলবার লিসবনে বেনফিকার এস্তাদিও দা লুজ পরিদর্শন করেন ফিফার একটি বহুমুখী প্রতিনিধি দল। এ সময় ক্লাবটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নুনো কাতারিনো স্টেডিয়ামে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নকাজ এবং বিশ্বকাপের আগে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় থাকা প্রকল্পগুলো তুলে ধরেন।
উপস্থাপনায় বেনফিকা ডিস্ট্রিক্ট প্রকল্পের বিষয়টিও উঠে আসে। স্টেডিয়ামটির আশপাশের এলাকার উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এটি।
এর আগে প্রতিনিধি দলটি স্পোর্তিংয়ের এস্তাদিও জোসে আলভালাদে পরিদর্শন করে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে তারা পোর্তোয় গিয়ে এস্তাদিও দো দ্রাগাঁও পরিদর্শন এবং সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
পরিদর্শন শেষে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেন ফিফার স্ট্র্যাটেজি পরিচালক নিকোলাস রোজেনবার্গ।তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা যা দেখেছি, তা খুবই ইতিবাচক। লিসবনে আমাদের কাজ অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও আনন্দদায়ক হয়েছে।’
রোজেনবার্গ জানান, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ, ক্লাব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে তাঁদের।গত বছরের মার্চে ফিফার সর্বশেষ পর্তুগাল সফরের সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি বলেন, দুই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।
তিনি বলেন, ‘লিসবনের যেসব স্টেডিয়াম আমরা পরিদর্শন করেছি, সেগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিকল্পনায় বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনের কাজ চলছে এবং স্টেডিয়ামগুলোও উন্নত হচ্ছে।’
বিশ্বকাপ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের ধারণাও আগের চেয়ে বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন ফিফার এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই আশাবাদী। সংশ্লিষ্ট সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমার বিশ্বাস, সবাই মিলে এই প্রকল্পকে সফল করতে পারব।’পর্তুগালের বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া আয়োজনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আয়োজক ভেন্যু চূড়ান্ত করতে চলছে পরিদর্শন
২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হিসেবে ইতিমধ্যে পর্তুগাল, স্পেন ও মরক্কোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ফিফা। এ ছাড়া বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কোন শহর ও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ জন্য নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে তিন আয়োজক দেশের সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো পরিদর্শন করছে ফিফার প্রতিনিধি দল।
স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি, পরিচালন পরিকল্পনা, পরিবহন, আবাসনসহ টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যাচাই করা হচ্ছে।পর্তুগালের সম্ভাব্য আয়োজক শহর হিসেবে রয়েছে লিসবন ও পোর্তো। দেশটির প্রস্তাবিত তিনটি স্টেডিয়াম হলো বেনফিকার এস্তাদিও দা লুজ, স্পোর্তিংয়ের এস্তাদিও জোসে আলভালাদে এবং পোর্তোর এস্তাদিও দো দ্রাগাঁও।
তবে কোন স্টেডিয়ামে কতটি বা কী ধরনের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, তা ভেন্যুগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার পরই নির্ধারণ করা হবে।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে রয়েছেন আন্তোনিও লারাঞ্জো। লিসবনের কাজ শেষে ফিফার কর্মকর্তারা বিলবাও ও সান সেবাস্তিয়ান সফর করবেন। এরপর শুক্রবার পোর্তোয় ফিরে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করবেন তাঁরা।


