গত মাস থেকে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে তিন দফায় পুলিশের লাঠিচার্জের নির্দেশ কে দিয়েছিল, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরে নানা বক্তব্যের পর এবার মুখ খুলেছে পর্তুগালের পুলিশ ইউনিয়ন এএসপিপি/পিএসপি। সংগঠনটির দাবি, এসব অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস নেভেস।
আজ এক বিবৃতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে পুলিশ প্রফেশনালস ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে পুলিশ সদস্যদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা বিবৃতিতে ইউনিয়নটি বলেছে, পুলিশের এসব অভিযান সরকারের ‘অগ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক তাড়াহুড়া ও হস্তক্ষেপের’ প্রতিফলন। এতে পুলিশের কার্যক্রম ও সদস্যদের পেশাদারত্ব বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমএআই) ‘বারবার অবস্থান পরিবর্তনের’ও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয় আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই নিয়ম প্রয়োগ করছে। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে সমাধানযোগ্য একটি সমস্যার পরিণতি পুলিশ সদস্যদের বহন করতে হচ্ছে।
‘আজ কারও অধিকার সীমিত হলে, কাল সবার অধিকার খর্ব হবে’
বিক্ষোভের অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে, অস্ত্র ছাড়াই এবং সংবিধানের সীমার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে বলে মনে করে ইউনিয়নটি। তবে এ অধিকারের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা নিয়েও সতর্ক করেছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আজ যা কারও অধিকার সীমিত করছে, আগামীকাল তা সবার অধিকার সীমিত করবে—এমনকি পুলিশ সদস্যদের অধিকারও।’
এ প্রসঙ্গে ১৯৮৯ সালের ‘সেকোস ই মোলহাদোস’ ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। ওই ঘটনায় বিক্ষোভরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিজের বাহিনীর সদস্যদেরই মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইউনিয়নটির মতে, সাম্প্রতিক অভিযানগুলো পুলিশের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
আবাসন ও নিরাপত্তা সংকট সমাধানের দাবি
বিবৃতির শুরুতে পোর্তো ও লিসবনে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এএসপিপি/পিএসপি। প্রয়োজনে তাদের সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে সংগঠনটি।
তবে এসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে চলমান বিতর্ক আরও উসকে দিতে চায় না বলে জানিয়েছে ইউনিয়নটি। তাদের মতে, পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিক্ষোভের পেছনে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধান করাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এ লক্ষ্যে সরকারের কাছে আবাসন ও নিরাপত্তা সংকটের সুনির্দিষ্ট সমাধান চেয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দুই বছর আগে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তারা। ইউনিয়নের অভিযোগ, সরকার এখনো এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি।
পুলিশ ইউনিয়নের এই অবস্থান সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের সিদ্ধান্তের দায় কেবল সদ্য নিয়োগ পাওয়া পিএসপি প্রধানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছিল সরকার। ওই পুলিশপ্রধানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একটি ফৌজদারি অভিযোগও দায়ের হয়েছে।


