বিশ্ববাজারে তামার দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণে বেলজিয়ামের রেলওয়ে নেটওয়ার্কে তামার তার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে দেশটির রেলওয়ে অবকাঠামো তদারককারী সংস্থা ‘ইনফ্রাবেল’ গত বছর প্রায় ২০ লাখ ইউরো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বেলজিয়ামের রেলপথে ৩০৩টি তার চুরি বা চুরির চেষ্টার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। আর ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ১২২টি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বছরের শুরু থেকে ১৭ শতাংশ এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পর বর্তমানে দেশটিতে প্রতি কেজি তামার দাম ৯ থেকে ১০ ইউরোতে ঠেকেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক ডেটা সেন্টার, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সৌর প্যানেল তৈরির মতো আধুনিক খাতগুলোতে তামার বিপুল চাহিদার কারণেই মূলত ধাতুটির দাম এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুযোগসন্ধানী চোরদের পাশাপাশি সুসংগঠিত অপরাধী চক্রও এই চুরিতে জড়িয়ে পড়েছে। চক্রগুলো সুনির্দিষ্টভাবে জানে কোন তারগুলো কাটতে হবে এবং তারা একযোগেই কয়েকশ মিটার তার কেটে নিয়ে যায়। এসব চুরির প্রায় ৮০ শতাংশই ঘটছে দেশটির ওয়ালোনিয়া অঞ্চলে, বিশেষ করে লিজ এবং হাইনট প্রদেশে।
বেলজিয়ামে তামা কেনার ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক এবং নগদ অর্থে লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্থানীয় এক স্ক্র্যাপ ধাতু ব্যবসায়ী জানান, ইনফ্রাবেলের তারগুলোতে সুনির্দিষ্ট চিহ্ন থাকায় তাঁদের মতো বৈধ প্রতিষ্ঠানে তা গ্রহণ করা হয় না। তবে তাঁর ধারণা, চুরি হওয়া এসব তারের একটি বড় অংশ পাচার হয়ে প্রতিবেশী নেদারল্যান্ডসে চলে যায়, যেখানে এখনও নগদ অর্থে কেনাবেচার সুযোগ রয়েছে। যদিও রেলওয়ে পুলিশের দাবি, চোরাই তামা পুনরায় বিক্রির অবৈধ নেটওয়ার্ক বেলজিয়ামসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও সক্রিয় রয়েছে।
চুরি প্রতিহত করতে রেলের তারগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলা এবং শনাক্তকরণ চিহ্ন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইনফ্রাবেল। একই সঙ্গে কারিগরিভাবে যেখানে সম্ভব, সেখানে তামার চেয়ে তুলনামূলক কম দামি অ্যালুমিনিয়ামের তার ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইনফ্রাবেল প্রতিটি চুরির ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে থাকে। গত বছর এ ধরনের মামলায় প্রায় ২০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যাদের সর্বোচ্চ নয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং কয়েক হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।


