ব্রেক্সিটের পর নতুন অভিবাসন ব্যবস্থায় কম দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য যুক্তরাজ্যে কাজের ভিসার পথ বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার। নিয়োগকারীদের ইউরোপ থেকে আসা ‘সস্তা শ্রমিকদের’ ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কর্মী ধরে রাখা ও অটোমেশন প্রযুক্তির উন্নয়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও এর বাইরের যেসব নাগরিক যুক্তরাজ্যে কাজের জন্য আসতে চান, ফ্রি মুভমেন্ট ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার পর তাদের একই অভিবাসন নীতির আওতায় যাচাই করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন পয়েন্টভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে এবং অনুমোদিত স্পন্সরের অধীনে দক্ষতাসম্পন্ন একটি চাকরির প্রস্তাব থাকতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করলে তারা ৫০ পয়েন্ট পাবেন।
কাজের ভিসা পেতে একজন আবেদনকারীকে মোট ৭০ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। যোগ্যতা, বেতন এবং যেসব খাতে কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, সেসব খাতে কাজের জন্য অতিরিক্ত পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তবে সরকার জানিয়েছে, কম দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকদের যুক্তরাজ্যে আনার জন্য নতুন কোনো অভিবাসন পথ তৈরি করা হবে না।
সরকারের মতে, নতুন কর্মী আনার পরিবর্তে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করা প্রায় ৩২ লাখ ইইউ নাগরিকের একটি বড় অংশের মাধ্যমে শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
পাশাপাশি কৃষি খাতে মৌসুমি শ্রমিক আসার অনুমোদিত সংখ্যা চার গুণ বাড়িয়ে ১০ হাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইয়ুথ মোবিলিটি অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায়ও প্রতিবছর ২০ হাজার তরুণ যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ইইউর বাইরের দেশগুলো থেকে আসা কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে অবশ্য নিয়ম শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত দক্ষতার মান এবং ন্যূনতম বেতনের শর্তে ছাড় দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
সরকারের দাবি, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে দক্ষ ও সম্ভাবনাময় কর্মীদের আসার সুযোগ তৈরি হবে। তবে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, নতুন নীতির কারণে কিছু খাতে প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়া কঠিন হতে পারে।


