ফ্রান্সে স্কুলশিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ। রবিবার এক নির্বাচনী সমাবেশে আন্দোলনরত হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে ভোট দেওয়ার বয়স ১৬ বছরে নামিয়ে আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বাছাইপ্রক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আগামী বছরের এপ্রিল ও মে মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্লেরমঁ-ফেরঁতে সমাবেশ করেন মেলঁশোঁ। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ন্যাটো ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।
স্কুল ভবনের বেহাল দশা, শিক্ষকের সংকট এবং সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে দেশজুড়ে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। তরুণদের মধ্যে আন্দোলনটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কয়েক দফায় আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে।
এ ঘটনায় ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পুলিশ সদস্যসহ শত শত মানুষ।সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনী ফায়দা নিতে মেলঁশোঁর দল ‘ফ্রঁস আনবো’ এই আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে। তবে মেলঁশোঁ বলেছেন, তাঁর দল আন্দোলনের আয়োজক নয়। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রাখার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন।
রবিবারের সমাবেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানায় তাঁর দল। মেলঁশোঁ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ‘উচ্চমানের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিপক্বতার’ পরিচায়ক বলে উল্লেখ করেন। আন্দোলনকারীদের অনেকের বয়সই ১৮ বছরের নিচে। ৭৫ বছর বয়সী মেলঁশোঁ এবার চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মঙ্গলবার ও আগামী শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে আন্দোলনকারীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কমাতে স্কুলের সময়সূচিও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, এসব উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
পূর্ব প্যারিসের একটি স্কুলে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে হাইস্কুলের লাইব্রেরিয়ান দুনিয়া জর্জিওন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, এই আন্দোলন তরুণদের ‘রাজনীতিতে প্রবেশের সূচনা’ করছে। তাঁর আশঙ্কা, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
রবিবারের সমাবেশে অবসরের বয়স ৬২ থেকে কমিয়ে ৬০ বছর করার দাবিও জানান মেলঁশোঁ। একই সঙ্গে ফ্রান্সের বিপুল ঋণের বোঝা বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ট্রাম্পের শুল্কনীতির সমালোচনা করে তাঁকে ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন মেলঁশোঁ। তাঁর মতে, ফ্রান্সের আরও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা উচিত।তিনি বলেন, ‘ন্যাটোর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের জন্য আমরা আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের প্রাণ দিতে প্রস্তুত করছি না।’
মেলঁশোঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ন্যাটোর সদস্যপদকে ‘ফ্রান্সের স্বার্থের পরিপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে রাশিয়ার সঙ্গে আরও উন্নত আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও ইউক্রেনের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।
এদিকে রবিবার ফ্রান্সের সোশ্যালিস্ট পার্টি ও তাদের মিত্রজোটের ভোটাররা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রাফায়েল গ্লুকসম্যানকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে বামপন্থীদের বিভাজন ও সাইবার হামলার কারণে প্রাথমিক নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
সপ্তাহান্তে নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন মধ্য-ডানপন্থী প্রার্থী এদুয়ার ফিলিপ এবং মধ্যপন্থী গ্যাব্রিয়েল আতাল। তাঁরা দুজনই ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাবেক প্রধানমন্ত্রী।


