পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা ‘আইমা’ (AIMA) অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিতকরণের বিশাল বকেয়া জট প্রায় পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছে। সেখানে জমা থাকা ৪ লাখ ৪৫ হাজার বকেয়া আবেদনের মধ্যে এখন মাত্র ৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে বলে আজ দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সি বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো।
এই অগ্রগতির ফলে সংস্থাটি এখন পরিবার পুনরেকত্রীকরণ (ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন) এবং ‘গোল্ডেন ভিসা’র মতো দীর্ঘসূত্রতার মুখে থাকা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাড়তি জনবল ও মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চলতি বছর পরিবার পুনরেকত্রীকরণের জন্য ৫৫ হাজার অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়েছে এবং ২৬ হাজার রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপত্র প্রদান করা হয়েছে। এটি সংস্থাটির বার্ষিক ঐতিহাসিক গড়ের (২০ হাজারের কম) চেয়েও বেশি। অন্যদিকে ৪৬ হাজার অনিষ্পন্ন গোল্ডেন ভিসা আবেদনের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে এবং ৬ হাজার আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
লেইতাও আমারো বলেন, প্রযুক্তি ও কর্মী সংকটের কারণে পুঞ্জীভূত আবেদন এবং নতুন আগমনের চাপে আইমা শুরুতে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে পরবর্তীতে সংস্থাটির কর্মী সংখ্যা ৭২৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মধ্যস্থতাকারী, স্থানীয় সহায়তা অংশীদারত্ব এবং কল সেন্টারের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।
পার্লামেন্টের সাংবিধানিক বিষয়ক কমিটিকে তিনি জানান, আইমার অস্থায়ী মিশন কাঠামোর অধীনে পরিচালিত ৯ লাখ ৪০ হাজার নোটিফিকেশনের ৯৮ শতাংশই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই ৪ লাখ ৪৫ হাজার বকেয়া আবেদন মূলত দেশটির সাবেক ‘অভিব্যক্তি প্রকাশ’ (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) পদ্ধতির আওতাধীন ছিল; যার মাধ্যমে কোনো রেসিডেন্স ভিসা ছাড়া এমনকি ট্যুরিস্ট ভিসায় পর্তুগালে প্রবেশ করেও কাগজপত্র পাওয়ার আবেদন করার সুযোগ ছিল।
মন্ত্রী জানান, পর্তুগাল এখন তাদের অভিবাসন নীতির ‘দ্বিতীয় ধাপে’ প্রবেশ করছে; যেখানে অভিবাসীদের সমাজের সঙ্গে একীভূতকরণ (ইন্টিগ্রেশন) এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হবে। সরকারের প্রথম ধাপের সংস্কারের চূড়ান্ত আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে ‘ল অব রিটার্ন’ (প্রত্যাবাসন আইন) অনুমোদনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
একটি জাতীয় একীভূতকরণ পরিকল্পনা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিদ্যালয়গুলোতে সাংস্কৃতিক মধ্যস্থতাকারীর সংখ্যা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪০০ জনে উন্নীত করাসহ বিভিন্ন চলমান পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পর্তুগালে বিদেশি জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এটি নতুন আগমনের ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশের মতো মন্থরগতির ইঙ্গিত দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হলো ‘বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করা, অভিবাসীবিরোধী হওয়া নয়।’
এক বছর আগে ঘোষিত নিয়মিত শ্রম অভিবাসন প্রটোকলের আওতায় ২১ হাজার ৬০০টি আবেদনের মধ্যে ১২ হাজার ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে। এতে গড়ে ২০ দিন সময় লেগেছে এবং প্রায় ১০ শতাংশ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আবেদন যাচাইয়ে নিয়োগকর্তাদের কনফেডারেশনগুলো যুক্ত রয়েছে।
তবে মন্ত্রী কিছু সমস্যার কথাও স্বীকার করেন; যার মধ্যে অনিয়মের অভিযোগে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে গিনি-বিসাউয়ের পর্তুগিজ কনস্যুলার পোস্টকে এই প্রটোকল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘটনাও রয়েছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সব কনফেডারেশনকে তলব করে প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ‘লিভরে’ দলের সংসদ সদস্য পাওলো মুয়াচোর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বেলারুশের নাগরিকদের রেসিডেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট গ্রহণ করা হতে পারে এবং তাঁদের কেসগুলো স্বতন্ত্রভাবে মূল্যায়ন করা হবে। বেলারুশের সরকারবিরোধীরা নিজ দেশে পাসপোর্ট নবায়ন করতে গেলে গ্রেপ্তারের যে ঝুঁকিতে পড়েন, সংসদ সদস্য মুয়াচো সে বিষয়টি সরকারের নজরে এনেছিলেন।


