উত্তর সাইপ্রাস উপকূলে ২৬৭ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে গেছে। স্বঘোষিত ‘তুর্কি রিপাবলিক অব নর্দার্ন সাইপ্রাস’ প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিকোশিয়ায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত আলী মুরাত বাসকারি তুরস্কের সরকারি গণমাধ্যম টিআরটি-কে নিহতের সংখ্যা নির্দিষ্ট না করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘ফেরির ২৫৯ জন যাত্রীর বিশাল অংশকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’ উত্তর সাইপ্রাসের গণপূর্ত ও পরিবহন মন্ত্রী এরহান আরিকলি বলেন, ‘গিরনে (গ্রিক নাম কিরেনিয়া) উপকূলে ফেরিটি কাত হয়ে উল্টে যায় এবং ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
তুর্কি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে—উত্তাল ও বৈরী সমুদ্রে ফেরিটি আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় দুলছে এবং পানির ওপরে ভেসে বেড়াচ্ছে লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ। তবে ঠিক কী কারণে ফেরিটি ডুবে গেল, তা এখনও জানা যায়নি।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা সবাই চরম আতঙ্কিত অবস্থায় ছিলেন এবং তাদের গায়ে কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেট পরানো ছিল। উদ্ধারকাজে গতি আনতে উপকূলীয় এলাকায় বিপুল পরিমাণ ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী গাড়ি এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য জরুরি উদ্ধার ও স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে তুরস্ক সমর্থিত স্বঘোষিত ‘টিআরএনসি’ সাইপ্রাস থেকে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে, যা কেবল তুরস্কের দ্বারাই স্বীকৃত। ১৯৭৪ সালে তুর্কি সেনাবাহিনীর সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চল দখলের ৯ বছর পর এই স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল। এই দুর্ঘটনার মধ্যেই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আজ সোমবার উত্তর সাইপ্রাসের নেতা তুফান এরহুরম্যানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে সেখানে রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।


