কালো অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সবার সঠিক ও প্রয়োজনীয় কর পরিশোধ নিশ্চিত করতে একের পর এক আইন প্রণয়ন সত্ত্বেও পর্তুগালে গত চার বছরে অঘোষিত কাজ (আনডিক্লেয়ার ড ওয়ার্ক) এবং ভুয়া স্বনির্ভর কাজের রসিদ বা ‘গ্রিন রিসিপ্ট’ ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পর্তুগালের দৈনিক ‘জর্নাল দে নোটিসিয়াস’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে নতুন পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, নির্মাণ শিল্প, কৃষি এবং ক্যাটারিং (রেস্তোরাঁ) খাত ‘এই অনৈতিক চর্চার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে’।
আজ সকালে সম্প্রচারমাধ্যম এসআইসি জানিয়েছে, ‘সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোর ওপর প্রায় ১১,০০০ জরিমানা আরোপ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ (১৪ মিলিয়ন) ইউরো।’
জর্নাল দে নোটিসিয়াসের তথ্য অনুযায়ী, শ্রম বিধিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করার লক্ষ্যে দেশটির কর্মপরিবেশ বিষয়ক কর্তৃপক্ষ ‘এসিটি’ গত বছর নিয়োগকর্তাদের ওপর প্রায় ১৫,০০০ পরিদর্শন বা অডিট পরিচালনা করেছে।
এই পরিস্থিতিগুলো মোকাবিলার জন্য পর্তুগাল সরকার আইনি কাঠামোতে সংশোধন করার পরিকল্পনা করেছিল—যার মূল উদ্দেশ্য ছিল কিছু চর্চাকে অপরাধের আওতামুক্ত করা এবং জরিমানার পরিমাণ হ্রাস করা। তবে গত মাসে দেশটির পার্লামেন্টে সরকারের শ্রম সংস্কার বিল বা প্যাকেজটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় এই প্রস্তাবটি আর বাস্তবায়িত হতে পারেনি।
যারা ‘ভুয়া স্বনির্ভর কাজের রসিদ’ বা ফেইক সেলফ-এমপ্লয়মেন্ট ইনভয়েস বিষয়টি বুঝতে পারছেন না, তাঁদের সুবিধার্থে বলা যায়—এটি মূলত এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কোম্পানিগুলো কর্মী নিয়োগ দিলেও তাদের কর্মসংস্থানের তথ্য ঘোষণা করে না কিংবা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র দেয় না।
পরিবর্তে, কর্মীরা সেখানে ‘সেবা সরবরাহকারী’ হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা মূলত একটি নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার অধীনে পূর্ণকালীন কাজ করা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ স্বাধীন বা ফ্রিল্যান্সার কর্মী হিসেবে নিজেদের জাতীয় বীমা ও সামাজিক নিরাপত্তা ফি নিজেরাই পরিশোধ করে থাকেন।
পর্তুগাল রেসিডেন্ট


