পর্তুগালে বসবাস না করা বিদেশি নাগরিক এবং অনিয়মিত প্রবাসীদের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এসএনএস) ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করতে দেশটির পার্লামেন্টে নতুন একটি বিল এনেছে ক্ষমতাসীন দলগুলো। সরকার সমর্থক দল পিএসডি (সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস) এবং সিডিএস-পিপি যৌথভাবে এই বিলটি জমা দিয়েছে। এর আগে পূর্ববর্তী আইনসভায় কট্টর ডানপন্থি দল ‘শেগা’র সমর্থনে বিলটি পাস হলেও আগাম নির্বাচনের কারণে তা কার্যকর হতে পারেনি।
মূল স্বাস্থ্য আইন সংশোধনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সাধারণ নীতি হিসেবে পর্তুগিজ নাগরিকদের পাশাপাশি কেবল বৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের সাময়িক বা স্থায়ী বাসিন্দা, বৈধ তৃতীয় দেশের নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা আবেদনকারীরাই এসএনএসের নিয়মিত সুবিধাভোগী হিসেবে গণ্য হবেন।
নতুন খসড়া অনুযায়ী, অননুমোদিতভাবে অবস্থানরত বা পর্তুগালে বসবাস না করা কোনো বিদেশি নাগরিক যদি এসএনএসের চিকিৎসা নিতে চান, তবে তাঁদের অবশ্যই আইন অনুযায়ী চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ পরিশোধ করতে হবে অথবা নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।
বিলে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে, চিকিৎসার খরচের নিশ্চয়তা পেতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রোগীদের কাছ থেকে আগাম অর্থ পরিশোধ, জামানত বা গ্যারান্টি দাবি করার আইনি কাঠামো পাবে। তবে অনাবাসী বিদেশিদের ক্ষেত্রে জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে রোগীকে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দিতে হবে।
বিলটির পটভূমি ব্যাখ্যা করে দল দুটি উল্লেখ করেছে যে, সম্প্রতি অবৈধ চক্রের সাহায্যে কেবল পর্তুগালের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু বিদেশির দেশে আসার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। নিজেদের দাবির সপক্ষে দল দুটি দেশটির স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিদর্শক জেনারেলের ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের একটি সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে।
ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার বছরেরও কম সময়ে পর্তুগালে বসবাস না করা প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি নাগরিক এসএনএসের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষের কোনো স্বাস্থ্যবিমা বা আন্তর্জাতিক চুক্তি ছিল না।
পিএসডি এবং সিডিএস-পিপি এই পরিস্থিতির জন্য সাবেক সমাজতান্ত্রিক দল (পিএস) এবং বামপন্থি দলগুলোকে দায়ী করেছে। তারা দাবি করে, বিদ্যমান আইনে কাগজবিহীন অভিবাসীদেরও ঢালাওভাবে স্বাস্থ্যসেবার অন্তর্ভুক্ত করায় কল্যাণকামী রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
হাসপাতালগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিদেশি রোগীদের চিকিৎসার অনাদায়ী বকেয়ার পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, আলগারভের স্থানীয় স্বাস্থ্য ইউনিটে (ULS) ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিমাহীন বিদেশিদের জরুরি সেবার ১২ লাখ ৩০ হাজার (১.২৩ মিলিয়ন) ইউরো বকেয়া পড়ে আছে যা আদায় করা যায়নি। জাতীয় পর্যায়ে অনাবাসী নাগরিকদের এই বকেয়া চিকিৎসার কারণে পর্তুগালের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাকে প্রতি বছর ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ইউরোরও বেশি আর্থিক ক্ষতির বোঝা বইতে হচ্ছে।


