সুইডেনে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য ‘সৎ জীবনযাপন’ বা ‘অনেস্ট লিভিং’ নামে একটি নতুন আইন করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির সরকার। এই আইনটি নিয়ে বর্তমানে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই আইন কার্যকর হলে অভিবাসীদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে এবং তাদের সাথে বৈষম্য করা হবে।
আগামী ১৩ই জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মের আওতায়, যারা ইউরোপের বাইরের নাগরিক, তাদের থাকার অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) দেওয়ার সময় পুলিশ ও অভিবাসন দপ্তর কয়েকটি বিষয় খুব কড়াভাবে পরীক্ষা করবে। এর মধ্যে রয়েছে ওই ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপদ কি না, কোনো উগ্রবাদী দলের সাথে যোগাযোগ আছে কি না, কিংবা ছোটখাটো কোনো অপরাধ বা জরিমানা রয়েছে কি না।
শুধু তাই নয়, টাকা-পয়সার লেনদেনের ক্ষেত্রেও থাকতে হবে পরিষ্কার। কেউ যদি সরকারের দেওয়া ভাতার টাকা নিয়ে জালিয়াতি করেন, কর ফাঁকি দিয়ে কাজ করেন কিংবা ইচ্ছে করে ধার বা ঋণ শোধ না করেন, তবে তাকে ‘অসৎ’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। এমনকি ভিক্ষাবৃত্তি বা অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকলেও তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার (ডিপোর্ট) সুযোগ থাকবে এই আইনে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আইনের বিরোধিতা করছে কারণ তাদের মতে, ‘অসৎ জীবনযাপন’ বলতে আসলে কী বোঝায়, সরকার তা পরিষ্কার করে বলেনি। এর ফলে অভিবাসীদের মধ্যে সারাক্ষণ আতঙ্ক কাজ করবে। এছাড়া, পরিবেশ রক্ষা বা অন্য কোনো প্রতিবাদী আন্দোলনে অংশ নেওয়াকেও সরকার চাইলে ‘উগ্রবাদ’ বলে চালিয়ে দিতে পারে, যা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার সমান।
এদিকে, সরকার অভিবাসীদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে বড় অংকের টাকার লোভও দেখাচ্ছে। বর্তমানে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়লে একজনকে প্রায় ৯০০ ইউরো দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ তেমন একটা যেতে রাজি না হওয়ায় সরকার এই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৩২,০০০ ইউরো (বিপুল পরিমাণ অর্থ) করার প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত ২০১৫ সালের পর থেকে সুইডেন তাদের দেশে আসা শরণার্থীদের চাপ কমাতে একের পর এক কঠিন আইন তৈরি করছে।


