বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম কমাতে জার্মানি ও ফ্রান্সকে তাদের জরুরি মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল।
তবে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইউরোপীয় দেশগুলো ডিজেল মজুত ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন জার্মানি ও ফ্রান্সকে জরুরি ডিজেল মজুত কমানোর আহ্বান জানায়। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ না মানলে মার্কিন ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে ইউরোপের দেশগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পর ইউরোপীয় কমিশন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা ডিজেল মজুত ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। শুক্রবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এ বিষয়ে বৈঠক করে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স ইউরোপীয় দেশগুলোর মজুত থেকে প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সদস্য দেশগুলো আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়তে পারে বলে আলোচনায় এসেছে। ইউরোপের প্রস্তাবিত ডিজেলের একটি অংশ ২০ দিনের মধ্যে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেলের দাম বেড়েছে। ইরান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়া ও চীনের জ্বালানি রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতার কারণে বাজারে পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ আরও চাপে পড়েছে।
এদিকে ইউরোপের জন্য জরুরি মজুত কমানোও একটি বড় সিদ্ধান্ত। কারণ, জ্বালানির দাম কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট আরও বাড়লে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত মজুত ধরে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। ইইউর দেশগুলোকে সাধারণত অন্তত ৯০ দিনের নিট আমদানি বা ৬১ দিনের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের সমপরিমাণ জরুরি তেল মজুত রাখতে হয়।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানি ও ফ্রান্স মিলেই ইইউর কৌশলগত ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল মজুতের প্রায় ৩৫ শতাংশ ধরে রেখেছে। সর্বশেষ পাওয়া ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ইইউর জরুরি গ্যাসঅয়েল ও ডিজেল মজুত ছিল প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টন। এর মধ্যে জার্মানির ৫৬ লাখ টন এবং ফ্রান্সের ৮২ লাখ টন মজুত ছিল।
শুক্রবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সভাপতিত্বে জি-৭ নেতাদের একটি ভিডিও বৈঠকেও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে।


