কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও তৈরির প্রবণতা গত এক বছরে ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রিটিশ অলাভজনক সংস্থা ‘ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন’ এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এআই-এর মাধ্যমে তৈরি এই কন্টেন্টগুলো সাধারণ ছবির তুলনায় অনেক বেশি বিকৃত এবং বীভৎস। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, তদন্তকারীরা এখন আসল ছবি এবং এআই-জেনারেটেড সিন্থেটিক কন্টেন্টের মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন।
IWF গত এক বছরে ৮,০০০-এরও বেশি এআই-তৈরি ছবি ও ভিডিও শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ৩,৪০০টি ছিল ‘ফুল-মোশন’ হাইপার-রিয়েলিস্টিক ভিডিও, যা দেখতে এতটাই বাস্তবসম্মত যে সাধারণ চোখে একে ভুয়া বলার উপায় নেই। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, এসব ভিডিওর প্রায় ৬৫ শতাংশই চরম পর্যায়ের যৌন নির্যাতন ও বিকৃতির ক্যাটাগরিতে পড়ে। অপরাধীরা এখন জটিল কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই ডার্ক ওয়েবে বিভিন্ন কাস্টম এআই মডেল এবং প্রশিক্ষণ কোর্স আদান-প্রদান করছে, যা এই ধরণের অপরাধের প্রবেশদ্বারকে আরও সহজ করে দিয়েছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে IWF। সংস্থাটি ইইউ-এর ‘এআই অ্যাক্ট’ সংশোধন করে এ ধরণের অপরাধপ্রবণ টুলগুলোকে ‘হাই রিস্ক’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। IWF-এর সিইও কেরি স্মিথ জোর দিয়ে বলেন, “প্রযুক্তির উন্নতি কখনই শিশুর নিরাপত্তার বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।” ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বর্তমানে এই বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী আইনি কাঠামো তৈরির কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো এনক্রিপ্টেড স্পেসগুলোতেও এ ধরণের অপরাধ শনাক্ত করা।


