ইতালির কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নেমে এল এক বিশাল বিপর্যয়। বিচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে তার আনা বিতর্কিত সংস্কার প্রস্তাবটি গণভোটে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির সাধারণ ভোটাররা। সোমবার এক ভাষণে মেলোনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ফলাফল কেবল একটি আইনি সংস্কারের হার নয়, বরং আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে মেলোনির ‘অপরাজেয়’ ভাবমূর্তিতে এক মারাত্মক আঘাত, যা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
সোমবার গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটার এই সংস্কার প্রস্তাবের বিপক্ষে ‘না’ ভোট দিয়েছেন। বিপরীতে সপক্ষে ভোট পড়েছে ৪৬ শতাংশ। এবারের গণভোটে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ, যা ইতালির রাজনৈতিক ইতিহাসে বেশ সন্তোষজনক বলে মনে করা হচ্ছে। মেলোনি শুরু থেকেই এই ভোটকে তার সরকারের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা নয় বলে দাবি করে আসলেও, পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি কিছুটা নমনীয় সুরে বলেন, “ইতালীয়রা তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে, তবে আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাব।” যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড্যানিয়েল আলবার্তাজ্জির মতে, এটি গত ৩০ বছর ধরে ডানপন্থীদের প্রধান নির্বাচনী ইশতেহারের এক লজ্জাজনক পরাজয়।
মেলোনির প্রস্তাবিত এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য ছিল বিচারক এবং সরকারি আইনজীবীদের (প্রসিকিউটর) ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা করা। সরকারের দাবি ছিল এটি আদালতের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে, কিন্তু সমালোচক ও বিরোধীদের মতে, এটি ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক গোপন নীল নকশা। এই ফলাফলের পর বিরোধী দল ‘ফাইভ স্টার মুভমেন্ট’-এর নেতা জিউসেপ্পে কন্তে একে সরকারের প্রতি ‘উচ্ছেদ নোটিশ’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে নতুন সরকারের দাবি জানিয়েছেন। ইতালির সাধারণ জনগণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের এই অপচেষ্টাকে রুখে দিয়ে মেলোনি সরকারকে এক কঠিন বার্তা দিল।


