পর্তুগালের বসবাসের অনুমতি বা ‘গোল্ডেন ভিসা’ পাওয়ার ক্ষেত্রে আবাসন খাতের বিকল্প হিসেবে এখন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক বিনিয়োগ। ২০২৫ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার লক্ষ্যে দেশটির সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে বিদেশি কোটিপতিদের অনুদানের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে এই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র ১১ মিলিয়ন ইউরো। অনুদানের এই উল্লম্ফনের ফলে চলতি বছর এই প্রক্রিয়ায় বসবাসের অনুমতি পাওয়ার হারও প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, এই বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে ২০২৫ সালে ২১১টি বসবাসের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্স পারমিট জারি করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল মাত্র ৫০টি। বর্তমানে পর্তুগিজ আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক দেশটির শিল্পকলা বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষণাবেক্ষণে ন্যূনতম ২ লক্ষ ৫০ হাজার ইউরো দান করলে এই গোল্ডেন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। মূলত আবাসন খাতে গোল্ডেন ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এই আইনি কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন বিদেশি সম্পদশালীরা।
এই বিনিয়োগ কর্মসূচিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মার্কিন নাগরিকরা, যারা মোট ১২০টি অনুদান দিয়েছেন। ৭০টি অনুদান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চীনারা। এর পরেই ৩০টি ভিসা নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ভারতীয়রা। তালিকায় অন্যান্য দেশের মধ্যে ব্রিটিশ, পাকিস্তানি, তুর্কি এবং ইরাকি নাগরিকদের পাশাপাশি শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে রয়েছে বাংলাদেশ, ইরান ও জর্ডান। এছাড়া ৩৬টি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দাতার জাতীয়তা উল্লেখ করা হয়নি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্তার সরকারের সময় ২০২৩ সালে রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতের মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হলেও সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগের পথ এখনো খোলা রয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুদান ছাড়াও অন্তত ১০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি অথবা ৫ লক্ষ ইউরো বা তার বেশি মূলধন স্থানান্তরের মাধ্যমেও পর্তুগালে এই বিশেষ বসবাসের সুযোগ পাওয়া সম্ভব।


