অভিবাসীদের জার্মান সমাজ ও কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করার প্রধান মাধ্যম ‘ইন্টিগ্রেশন কোর্স’-এর নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মান সরকার। ইনফোমাইগ্রেন্টস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান খরচ কমাতে সরকার এখন থেকে সাধারণ আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ কোর্সের পরিবর্তে কেবল সংক্ষিপ্ত বা ‘ইন্টিগ্রেশন-লাইট’ কোর্স প্রদানের পরিকল্পনা করেছে। ১ জুন থেকে এই নতুন কোটা পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডটের ঘোষণা অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং ইইউ নাগরিকরা আগের মতোই বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ কোর্স করার সুযোগ পাবেন। তবে সাধারণ আশ্রয়প্রার্থী এবং জার্মানিতে সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত অভিবাসীদের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিনামূল্যে ভাষা ও ইন্টিগ্রেশন কোর্স বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৬০০ ঘণ্টার ভাষা শিক্ষা এবং ১০০ ঘণ্টার ওরিয়েন্টেশন কোর্সের বদলে তাদের জন্য মাত্র ২৫ ঘণ্টার একটি প্রাথমিক ওরিয়েন্টেশন কোর্স চালু করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২১ সালে ইন্টিগ্রেশন কোর্সে ৪৭৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৩ বিলিয়ন ইউরোতে। সরকার এই বিশাল ব্যয় কমিয়ে ৬০০ মিলিয়ন ইউরোতে নামিয়ে আনতে চায়। মন্ত্রণালয়ের মতে, যাদের দীর্ঘমেয়াদে জার্মানিতে থাকার সম্ভাবনা নিশ্চিত, কেবল তাদের জন্যই পূর্ণাঙ্গ কোর্সের ব্যবস্থা রাখা হবে। মূলত আর্থিক চাপ সামাল দিতেই সরকার এই ‘শর্টকাট’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির সামাজিক সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। গ্রিন পার্টির অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ফিলিজ পোলাট মনে করেন, ভাষা শিক্ষার সুযোগ সীমিত করা মানে হলো সুপরিকল্পিতভাবে অভিবাসীদের সামাজিক ও শ্রমবাজারে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মাত্র ২৫ ঘণ্টার প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে একজন অভিবাসীর পক্ষে জার্মান সমাজে মানিয়ে নেওয়া বা কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির জন্য সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস


