ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে মানব পাচারের সাথে জড়িত অন্যতম বড় একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্পেনের পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং ১৮টি অত্যাধুনিক স্পিডবোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে স্প্যানিশ পুলিশ।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চক্রটি মূলত স্পিডবোটগুলো ব্যবহার করে প্রথমে স্পেন থেকে আলজেরিয়ায় ‘এক্সট্যাসি’-র মতো সিন্থেটিক মাদক পাচার করত। এরপর ফেরার পথে আলজেরিয়া থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অবৈধভাবে স্পেনের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল এবং জনপ্রিয় আইবিজা দ্বীপে নিয়ে আসত।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই চক্রটি এ পর্যন্ত অন্তত ৬৪টি মানব পাচার অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মাধ্যমে ২ হাজারের বেশি মানুষকে স্পেনে আনা হয়েছে। এই অবৈধ ব্যবসা থেকে তারা ২ কোটি ৪০ লাখ (২৪ মিলিয়ন) ইউরোরও বেশি মুনাফা অর্জন করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সমুদ্রের এই পারাপারগুলো ছিল ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ‘উত্তাল সমুদ্রে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে গাদাগাদি করে’ নিয়ে আসা হতো।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো কোনো সময় যাত্রার সময় পানিতে পড়ে যাওয়া রোধ করতে যাত্রীদের স্পিডবোটের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।’
পুলিশ জানায়, এই পাচারকারী চক্রটি প্রতিজন অভিবাসী পারাপারের জন্য সর্বোচ্চ ১২,০০০ ইউরো পর্যন্ত চার্জ বা ভাড়া আদায় করত। কোনো কোনো অভিযানে এক একটি স্পিডবোটে সর্বোচ্চ ৫০ জন পর্যন্ত অভিবাসী তোলা হতো।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এই অপরাধ চক্রের চারজন শীর্ষস্থানীয় নেতাও রয়েছেন। এ ছাড়া বাজেয়াপ্ত করা ১৮টি স্পিডবোটের বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ইউরোরও বেশি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ‘ইউরোপোল’ এবং ফ্রান্স, পর্তুগাল ও পোল্যান্ডের পুলিশ বাহিনীর যৌথ সহযোগিতায় এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
উল্লেখ্য, সমুদ্রপথে স্পেনে আসা বেশিরভাগ অবৈধ অভিবাসী মূলত পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আটলান্টিক রুট ব্যবহার করে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে এসে পৌঁছান, যা যুদ্ধ, নিপীড়ন ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসীদের আসার হার কিছুটা কমলেও, আলজেরিয়া থেকে স্পেন অভিমুখে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের হার অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।


