পর্তুগালে লাখ লাখ ইউরো অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চালু করা দুটি সাম্প্রতিক ‘প্রচারণা’ বা প্রকল্পের ফলাফল নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির গবাদি পশু খামারিরা। প্রতিটি প্রকল্পের অধীনে প্রতিজন আবেদনকারীর জন্য সর্বোচ্চ ৩০,০০০ ইউরো পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ ছিল। ‘আইএফএপি’ (ইনস্টিটিউট ফর ফাইন্যান্সিং ফর এগ্রিকারচার অ্যান্ড ফিশারিজ) কর্তৃক ব্যাপকভাবে প্রচারিত এই দুটি ব্যবস্থাপনাই চালুর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।
সেখানে কি শত শত আবেদনকারী ছিলেন? হ্যাঁ—তবে এই গণিতটি হিসাব করে ক্ষতিগ্রস্ত একজন খামারি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘রেসিডেন্ট’-কে বলেন, ‘৭৫ লাখ ইউরোকে ৩০,০০০ দিয়ে ভাগ করলে মাত্র ২৫০টি আবেদন পাওয়া যায়। অন্য কথায়, মাত্র পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ে ২৫০টি সম্পূর্ণ আবেদন—ফর্ম পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমাসহ—সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আমি এটি বিশ্বাস করতে পারছি না।’
ওই খামারি আরও বলেন, ‘আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে এই তহবিল নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছিল, কিন্তু এরপর চারদিকে একদম নীরবতা। আইএফএপি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি এবং এই অনুদান আসলে কারা পেল, তাও কারও জানা নেই।’
তাঁর অভিযোগ, ‘মনে হচ্ছে এই তহবিলটি কেবল বিশেষ কয়েকজন বা “মনোনীত কয়েকজনের” পকেটে গেছে, যারা আগে থেকেই এই প্ল্যাটফর্মটিতে অ্যাক্সেস পেয়েছিলেন বা এই জাতীয় কিছু ঘটেছে।’
তিনি মনে করেন, ‘অথবা হতে পারে এটি স্রেফ সরকারের একটি প্রচারণামূলক চাল ছিল।’
আঙুর ফল টক ভেবে এই অভিযোগ করা হচ্ছে—এমন ভাবার সুযোগ নেই; কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটু নজর দিলেই এ ধরনের ডজনখানেক অভিযোগ চোখে পড়ে, যেখানে মানুষ যা ঘটেছে তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
একজন লিখেছেন, ‘এটি কীভাবে সম্ভব? এমন কি হতে পারে যে আবেদন শুরু হওয়ার আগেই কিছু মানুষ আবেদনপত্র জমা দিয়ে দিয়েছিলেন? কর্তৃপক্ষের জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক…’
আরেকজন লিখেছেন, ‘এটি সবসময় একই রকম থাকে: আমাদের সরকার লাখ লাখ ইউরো নিয়ে বড় বড় কথা বলে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই থাকে না। এত অল্প সময়ের মধ্যে তহবিলটি শেষ হয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল; এখানে দুটি বিষয়ের একটি সত্য হতে পারে: প্রথমত, তহবিলের পরিমাণ আসলে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা নয়, অথবা এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা আগে থেকেই এই সুবিধা পেয়েছিলেন এবং তাঁদের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রেখেছিলেন, যার ফলে তহবিলটি দ্রুত শেষ হয়ে গেছে…’
জমিকে চারণভূমিতে পরিণত করা এবং ‘নতুন প্রকল্প’—উভয় প্রচারণার ক্ষেত্রেই প্রায় প্রতিটি মন্তব্য এটিই ইঙ্গিত করে যে, এগুলো আসলে ‘চোখে ধুলো দেওয়ার’ মতো বিষয়। অর্থাৎ যা প্রথমে আশাব্যঞ্জক দেখায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা স্রেফ ‘শূন্য বা ফাঁকা হাত’-এ পরিণত হয়।
তার মক্কেলদের পক্ষ থেকে আবেদনপত্র আপলোড করার চেষ্টা করা কারিগরি পরামর্শদাতা জর্জ ফার্নান্দেস লিখেছেন যে, যা ঘটেছে তা ‘চরম লজ্জাজনক’। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পরই আমাদের আবেদনপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল: আবেদনগুলো তৈরি এবং যাচাই করা হয়েছিল, কিন্তু জমাদানের প্রক্রিয়াটি ব্লক বা আটকে রাখা হয়েছিল (…) যারা মাঠে কাজ করছেন এবং খামারিদের মধ্যে এ নিয়ে বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছিলেন, আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত হাস্যকর ও হতাশাজনক।’
অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রেও—যেমন মানুষকে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের উদ্বুদ্ধ করার প্রচারণা ‘গো ইলেকট্রিক’ (যার বিষয়ে ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা ডেকো- ব্যাখ্যা করেছিল যে এটি আসলে যেমনটি প্রচার করা হয়েছিল তেমনটি ছিল না)—অনুরূপভাবে খুব দ্রুত সব তহবিল শেষ হয়ে গিয়েছিল। এটাও কি তবে কোনো প্রচারণামূলক চাল হতে পারে?
এই ধরনের নানা প্রশ্ন এখন বাতাসে ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘রেসিডেন্ট’ আগামীকাল আইএফএপি খোলার পর তাদের কাছ থেকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবে।
পর্তুগাল রেসিডেন্ট


