স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় অবৈধভাবে অবস্থানকারী সব অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে ইউরোপীয় কমিশন। গত জুলাইয়ের শেষে সেউতায় ব্যাপক অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনার পর মঙ্গলবার ব্রাসেলসে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বর্তমান অগ্রাধিকার হলো স্প্যানিশ এবং মরক্কোর কর্তৃপক্ষের পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং সেউতায় অবৈধভাবে অবস্থানকারী সকলের দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা।’
ল্যামার্ট জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইনের অধীন। এটি ইইউ-এর ‘রিটার্ন ডিরেক্টিভ’ এবং শীঘ্রই কার্যকর হতে যাওয়া ‘ইইউ রিটার্ন রেগুলেশন’-এর আওতায় পরিচালিত হবে। তিনি আরও জানান, অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদেরসহ অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আইনি সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
গত সপ্তাহে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছিলেন, সেউতায় এখনও প্রায় ৫,০০০ অবৈধ অভিবাসী অবস্থান করছেন, যার মধ্যে ১,৮৯৮ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু।
স্পেন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সেউতায় অবৈধভাবে অবস্থানকারী কাউকেই স্পেনের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া হবে না, বরং তাদের সবাইকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। চলতি মাসের শুরুর দিকে মরক্কো সরকারও জানিয়েছিল, অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে তারা স্পেন এবং ইইউ-এর অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
ল্যামার্ট আরও জানান, ইউরোপীয় কমিশন এখন অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। মানবপাচারকারী চক্রগুলোর গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধ করতে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ফ্যাক্ট-চেকারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ইইউ। ইতিমধ্যে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইউরোপীয় কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ইইউ-এর যৌথ বাহ্যিক সীমান্ত সুরক্ষায় স্পেন অত্যন্ত ‘গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় কাজ’ করছে। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইইউ সীমান্ত সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’ এবং ‘ইউরোপোল’ মোতায়েনে ইইউ-এর প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই প্রায় ৭২,০০০ মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছিল, যাদের প্রায় সবাইকে ইতিমধ্যেই মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে।


