পর্তুগালের পুলিশ বাহিনী পিএসপি-র বিশেষায়িত শাখা ‘ন্যাশনাল ইউনিট ফর ফরেনার্স অ্যান্ড বর্ডারস’ তাদের কার্যক্রমের প্রথম বছরে ৫২,০০০-এর বেশি বিদেশি নাগরিকের ওপর তল্লাশি চালিয়ে ১,১১৭ জন অবৈধ বা অনিয়মিত অভিবাসী শনাক্ত করেছে।
সংস্থাটির প্রথম বছরের কার্যক্রমের বিষয়ে পর্তুগিজ সংবাদ সংস্থা লুসা-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় পিএসপি জানিয়েছে, ২১ আগস্ট ২০২৫ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের ফরেনার্স অ্যান্ড বর্ডার কন্ট্রোল ইউনিট মোট ৫,৩৯৭টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে, যার অধীনে ৫২,৪২১ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র পরীক্ষা ও তল্লাশি করা হয়েছে।
পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘এই সাঁড়াশি অভিযানের ফলে পর্তুগাল থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার জন্য ৮৩১ জনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে ২৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অপরাধে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ পিএসপি যোগ করে যে—এই পরিসংখ্যান পর্তুগালে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের ওপর কড়া নজরদারি এবং অবৈধভাবে বসবাস বন্ধে পুলিশের প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।
ইউএনইএফ মূলত তাদের ‘সেন্ট্রাল রিটার্ন অ্যান্ড রিঅ্যাডমিশন ইউনিট’-এর মাধ্যমে অবৈধ বিদেশিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করে থাকে।
কার্যক্রমের প্রথম বছরে সংস্থাটি ২২১টি জোরপূর্বক ফেরত (ফোর্সড রিটার্ন) কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে ৮৩ জনকে পুলিশি পাহারায় চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১,৭৩২টি স্বেচ্ছায় ফেরত (ভলান্টারি রিটার্ন) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯৯৫টি সম্পন্ন হয়েছে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে।
পোর্তো শহরের সান্তো আন্তোনিও হাউজিং ইউনিট (বিশেষ ডিটেনশন সেন্টার) এবং লিসবন, পোর্তো ও ফারো বিমানবন্দরের অস্থায়ী ইমিগ্রেশন সেন্টারে মোট ৭০০ জনেরও বেশি তৃতীয় বিশ্বের (ইইউ-এর বাইরের) নাগরিককে আটক করা হয়েছিল। এই আটককৃতদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর কাছে ১১০টিরও বেশি নতুন ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা পাসপোর্টের আবেদন করা হয়েছিল।
পিএসপি-র হিসাব অনুযায়ী, অবৈধদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ৭২০টি জোরপূর্বক বহিষ্কার বা ‘কোয়ার্সিভ রিমুভাল’ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬২টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া স্বেচ্ছায় ও জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর জন্য এ পর্যন্ত ৮০০-রও বেশি বিমানের টিকিট বা ফ্লাইট বুকিং করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ৩ শতাধিক রিঅ্যাডমিশন (পুনঃপ্রবেশ) প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কারাগার ও অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টারে থাকা বন্দি বিদেশিদের ১৪০টিরও বেশি ‘রিস্ক ইন্টারভিউ’ বা ঝুঁকি মূল্যায়ন সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
পিএসপি আরও জানিয়েছে যে, তারা আইমা এবং বর্তমানে বিলুপ্ত এসইএফ থেকে আসা পুরোনো জোরপূর্বক বহিষ্কারের ফাইলগুলো খতিয়ে দেখছে, যার একটি বড় অংশ ২০২০ সালের আগের।
অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘মিনি এসইএফ’ নামে পরিচিত এই বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটটি ২১ আগস্ট ২০২৫ থেকে যাত্রা শুরু করে। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ইমিগ্রেশন পুলিশ ‘এসইএফ’-এর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন নজরদারির দায়িত্বটি এই নতুন ইউনিটের কাঁধে ন্যস্ত করা হয়। এসইএফ বিলুপ্ত হওয়ার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পায় পিএসপি, যা পরে ইউএনইএফ গঠনের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হয়।


