স্পেনে ২০২৫ সালে জন্ম নেওয়া একটি শিশু তার জীবদ্দশায় গড়ে ৭ দশমিক ৩ বছর এমন চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হবে, যা দাবানল সৃষ্টি ও ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
ব্রাসেলসের ভ্রিয়ে ইউনিভার্সিটি ব্রাসেলসের গবেষণায় স্পেনের মুরসিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও অংশ নিয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্স’ সাময়িকীতে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালে জন্ম নেওয়া একজন মানুষের তুলনায় ২০২৫ সালে জন্ম নেওয়া শিশুর দাবানলপ্রবণ আবহাওয়ার মুখোমুখি হওয়ার সময় ৩ দশমিক ৮ বছর বেশি। অর্থাৎ এ ধরনের ঝুঁকি বেড়েছে ১০৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যা দ্বিগুণেরও বেশি।
বর্তমান জলবায়ু নীতিগুলো অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে—এমন পরিস্থিতি ধরে গবেষণাটি করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, দাবানলপ্রবণ আবহাওয়া বলতে মূলত অতিরিক্ত গরম, শুষ্ক ও বাতাসপ্রবণ পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে আগুন লাগার আশঙ্কা বাড়ে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।
ইউরোপজুড়ে জন্ম নেওয়া বর্তমান প্রজন্মও এ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, ইউরোপে বর্তমানে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ ১৯৫০ সালের দিকে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের তুলনায় জীবদ্দশায় গড়ে আরও ৩ দশমিক ২ বছর দাবানলপ্রবণ চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হবে। এটি ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
গবেষণার সহলেখক রোসা পিয়েত্রোইউস্তি বলেন, আজকের শিশুরা জীবনে যে মাত্রার দাবানলঝুঁকির মুখোমুখি হবে, তা তাদের দাদা-দাদিদের অভিজ্ঞতার তুলনায় মৌলিকভাবে ভিন্ন। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের শিশুদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়বে।
রেকর্ড গরমের গ্রীষ্ম
গবেষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, গ্রীষ্মের শুরু থেকে একের পর এক তাপপ্রবাহ এসব দাবানলকে আরও তীব্র করেছে।
জাতিসংঘও সম্প্রতি জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৩ ও ২৪ জুন স্পেনে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে উষ্ণ দিনগুলোর দেখা মিলেছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্পেনে অতিরিক্ত তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত ৫ হাজার ২৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে দৈনিক মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
গবেষকদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন দাবানলপ্রবণ আবহাওয়াকে আরও ঘন ঘন এবং তীব্র করে তুলছে। ফলে অতীতে যেসব মৌসুম ও অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল, সেখানেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কমানো সম্ভব ঝুঁকি
তবে ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ধারিত নয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমানো গেলে সব অঞ্চলেই দাবানলপ্রবণ আবহাওয়ার মধ্যে মানুষের থাকার সময় কমানো সম্ভব।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমানো গেলে ইউরোপ ও স্পেন—উভয় জায়গাতেই জীবদ্দশায় এমন আবহাওয়ার মুখোমুখি হওয়ার সময় গড়ে ১ দশমিক ৩ বছর কমতে পারে।
গবেষণার সহলেখক ও ভ্রিয়ে ইউনিভার্সিটি ব্রাসেলসের অধ্যাপক উইম থিয়েরি বলেন, ভবিষ্যৎ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমানো গেলে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।


