বাড়ির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় আবাসন বাজারে বড় ধরনের ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে পড়েছে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুইস ব্যাংক ইউবিএস
-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে মিয়ামি, দুবাই, সিউল ও জেনেভার মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় যুক্ত হলো লিসবনের নাম।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয়ের সঙ্গে বাড়ি কেনার খরচের বিশাল ফারাক তৈরি হয়, তখন আবাসন বাজারে এই ধরনের ধস নামার পরিবেশ তৈরি হয়। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এসআইসি নোতিসিয়াস’ জানিয়েছে, বিগত ১০ বছরে লিসবনে প্রতি বর্গমিটারের গড় দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট এখন চরম রূপ নিয়েছে।
ইউবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিসবনে মাত্র ৬০ বর্গমিটারের একটি সাধারণ ফ্ল্যাট কিনতে একজন সাধারণ নাগরিকের গড়ে ৫ থেকে ১০ বছরের পুরো আয়ের প্রয়োজন হয়। প্রতিবেদনে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবল প্রবাহকে।
তবে পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে অনেক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীও মনে করছেন লিসবনের বাড়িঘরের মান ও অবস্থানের তুলনায় বর্তমান দাম অনেক বেশি এবং অযৌক্তিক।
ইউবিএস জানিয়েছে, গড় আয়ের তুলনায় বাড়ির দামের চাপে লিসবনের ক্রেতারা এখন মায়ামি, সান ফ্রান্সিসকো এবং নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের চেয়েও বেশি আর্থিক দুর্দশায় রয়েছেন।
উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় থাকা জুরিখ ও টোকিওর ঠিক পেছনেই অবস্থান করছে লিসবন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি মূলধন এবং ধনী প্রবাসী বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করতে পর্তুগাল সরকারের নেওয়া নীতিগুলোই লিসবনের আবাসন বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
বিগত এক দশকে শহরটিতে প্রতি বছর বাড়ির দাম গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ করে বেড়েছে—যা বিশ্লেষিত শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম বৃদ্ধির হার। এমনকি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত দাম আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউবিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, লিসবন বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসন বাজারে পরিণত হওয়ায় এই খাতের দীর্ঘদিনের প্রবৃদ্ধির ভিত্তিগুলো এখন দুর্বল হতে শুরু করেছে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, বাড়িভাড়ার লাগামছাড়া বৃদ্ধি থমকে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের লিসবনের বাইরে অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী এলাকায় চলে যাওয়ার কারণে আবাসন বাজারে চাহিদায় পরিবর্তন আসছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশি বিনিয়োগ কমলে বাজারটি পুনরায় স্থানীয় ক্রেতাকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে এবং এর ফলে বাড়ির দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে। হঠাৎ করে বাজার ধসে পড়ার চেয়ে দামের এই ধারাবাহিক পতন পর্তুগালের সার্বিক অর্থনীতির জন্য বেশি ইতিবাচক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


