মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপের এভিয়েশন খাতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপের বেশ কিছু বিমান সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন রায়ানএয়ার-এর সিইও মাইকেল ও’লিয়ারি। তিনি জানান, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রতি ব্যারেল জেট ফুয়েলের দাম ৮০ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৫০ ডলারে ঠেকেছে, যা অনেক সংস্থার পক্ষেই বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
সংকটের মূলে রয়েছে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আইএটিএ এর তথ্যমতে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে জ্বালানির গড় দাম এমনকি ১৭৯ ডলারেও পৌঁছেছিল। ও’লিয়ারি সতর্ক করে বলেন, যদি আগামী গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের ব্যস্ত সময়েও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জ্বালানির দাম এই পর্যায়ে থাকে, তবে অনেক নামী বিমান সংস্থা আর্থিক চাপ সইতে না পেরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবে।
এই সংকটকালীন সময়েও বাজেট এয়ারলাইন্স রায়ানএয়ার কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। সংস্থাটি তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৮০ শতাংশ আগেই ‘হেজিং’ বা পূর্বনির্ধারিত মূল্যে কিনে রাখায় আপাতত টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে না। তবে ইউরোপের অন্যান্য বড় সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে সংকটে পড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় করতে লুফথানসা অক্টোবর পর্যন্ত ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে, অন্যদিকে ইজিজেট টিকিটের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে। এছাড়া এসএএস ও কেএলএম-ও তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে এনেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির এই আকাশচুম্বী দাম ২০২৬ সালে বৈশ্বিক পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়া নিউজ ইংলিশ


