যত দ্রুত সম্ভব ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি।
মঙ্গলবার ইইউ-সম্পর্ক নিয়ে স্কটিশ সরকারের এক বিতর্কের আগে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, স্কটল্যান্ডের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ইইউর ভেতরেই রয়েছে। সুইনি বলেন, ‘একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইইউতে ফিরে যাওয়ার ওপরই স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সাফল্য নির্ভর করছে। ইউরোপীয় অংশীদার হিসেবে যখন আমরা গোটা ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান অংশীদারত্বে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করি, তখন আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক সংযোগ এবং তরুণদের সুযোগগুলো আরও শক্তিশালী হয়।’
ব্রেক্সিটের কারণে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে বাজেট পূর্বাভাস সংস্থা ‘অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি’ (ওবিআর)-এর বিশ্লেষণের বরাত দেন সুইনি। এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর স্কটল্যান্ড ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) পাউন্ডের সরকারি রাজস্ব হারাচ্ছে, যা দৈনিক হিসাবে ৯০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি।
ফার্স্ট মিনিস্টার সতর্ক করে বলেন, ‘কেবল ধাপে ধাপে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়।’
সুইনি আরও বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্য সরকারকে সাহসী হওয়ার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের সুবিধাগুলো অনুধাবন করার এবং যত দ্রুত সম্ভব ইইউতে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। সর্বোপরি, স্কটল্যান্ডের অবস্থান ইউরোপে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি স্বাধীন সদস্য রাষ্ট্র হিসেবেই আমাদের দেশের সবচেয়ে ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হতে পারে।’
ব্রাসেলসের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পর্যালোচনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইইউতে পুনরায় যোগদানের প্রস্তাব নিয়ে ‘একেবারে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার’ ইঙ্গিত দেওয়ার পরই স্কটল্যান্ডের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এলো। এক দশকের লক্ষ্যহীনতা ও বিভাজনের জন্য ব্রেক্সিটকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি সব বিকল্পের ‘ভালো ও মন্দ দিকগুলো’ খতিয়ে দেখবেন।
নেতা হিসেবে লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ব্রেক্সিট ‘উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে’ এবং চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের সময় তিনি বিকল্পগুলো দেশের সামনে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৬২ শতাংশ ভোটার ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে এবং ৩৮ শতাংশ ভোটার ত্যাগের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। স্কটল্যান্ডের ৩২টি স্থানীয় প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রতিটিতেই ইইউতে থাকার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় ছিল।


