পর্তুগালে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ২৮০ জন চালককে আটক করছে দেশটির পুলিশ বাহিনী ‘জিএনআর’। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে এই অপরাধে মোট ৮,৪৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, বছরের প্রথম সাত মাসে রক্তে অ্যালকোহলের ক্ষতিকর মাত্রার উপস্থিতিসংক্রান্ত মোট ৮,৮৫৬টি অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে।
মোট অপরাধের সংখ্যা এবং গ্রেফতারের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করে জিএনআর জানায়, ‘কিছু ক্ষেত্রে রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা পরিমাপের জন্য হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। ল্যাবরেটরির রিপোর্ট পেতে কিছুটা সময় লাগে এবং এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন বা অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।’
গ্রামীণ এলাকার দায়িত্বে থাকা এই পুলিশ বাহিনীর তথ্যমতে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে প্রতি মাসে গড়ে ১,২৬৫টি মামলা হচ্ছে। এই অপরাধে সবচেয়ে বেশি জড়িত ৩১ থেকে ৬৪ বছর বয়সীরা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা ২,৪৫০ জন। এরপর রয়েছে ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী (২,১৬৭ জন), ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী (১,৮৫০ জন) এবং ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা (১,২৬৬ জন)। তবে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ এবং বয়োজ্যেষ্ঠ চালকদের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
জিএনআর-এর তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে (উইকেন্ডে) মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশেষ করে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়টাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কারণেই এই নির্দিষ্ট সময়গুলোতে দেশটির মহাসড়কগুলোতে পুলিশের বিশেষ তল্লাশি অভিযান বা ‘স্টপ অপারেশন’ চালানো হয়। অঞ্চলগুলোর মধ্যে পোর্তো, সেতুবাল, আভেইরো এবং ফারো এলাকায় মদ্যপ চালক ও গ্রেফতারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
জিএনআর আবারও সতর্ক করে বলেছে, ‘অ্যালকোহল গ্রহণ করলে মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে যায়, দৃষ্টিসীমা সংকুচিত হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লোপ পায়। ফলে একটি গাড়ি চালক নিজে, গাড়ির যাত্রী এবং রাস্তায় থাকা অন্য সবার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।’
পর্তুগালের আইন অনুযায়ী, রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ১.২০ গ্রাম/লিটার বা তার বেশি থাকলে তা দণ্ডনীয় ট্রাফিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ১২০ দিনের আয়ের সমপরিমাণ জরিমানা এবং সেই সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। এত কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও চালকেরা প্রতি সপ্তাহে এই ঝুঁকি নিচ্ছেন; অতিরিক্ত মদ পান করে সহজেই বসে পড়ছেন গাড়ির চালকের আসনে।
অবশ্য জিএনআর-এর দেওয়া এই পরিসংখ্যান পুরো পর্তুগালের আংশিক চিত্র মাত্র। কারণ দেশটির শহরাঞ্চল এবং অভ্যন্তরীণ নগর এলাকাগুলোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ‘পিএসপি’ পুলিশের পরিসংখ্যান এতে যুক্ত হয়নি।


