স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে অন্তত পাঁচ আফ্রিকান অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তবে একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থার (এনজিও) দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এদিকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা রেড ক্রসকে জানিয়েছেন, ট্রলারটিতে নারী ও শিশুসহ শতাধিক যাত্রী ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্পেনের উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।
স্পেনের সামুদ্রিক উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সালভামেন্তো মারিতিমো’ জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে গ্রান ক্যানারিয়া দ্বীপ থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সাগরে ভাসমান একটি ট্রলার থেকে উপ-সাহারান আফ্রিকার ৪৪ জন পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টারে করে দ্বীপের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি ৪১ জনকে উদ্ধারকারী নৌকায় করে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে নিরাপদে আর্গুইনেগুইন বন্দরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে রেড ক্রসের পক্ষ থেকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সালভামেন্তো মারিতিমো জানিয়েছে, তীব্র বাতাস এবং সাগরে আড়াই মিটার উঁচু ঢেউসহ ‘প্রতিকূল আবহাওয়া’-র কারণে ট্রলারটি বন্দরে নিয়ে আসার আগে সেখান থেকে মৃত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের রেড ক্রসের মুখপাত্র হোসে আন্তোনিও রদ্রিগেজ ভেরোনা জানান, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের সবাই পুরুষ, যাদের মধ্যে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে। তারা মালি অথবা সেনেগালের নাগরিক।
স্পেনের অভিবাসী সহায়তা বিষয়ক এনজিও ‘কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস’-এর মুখপাত্র হেলেনা ম্যালেনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, প্রায় ২৭ দিন আগে গাম্বিয়া থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রলারে তিন নারী ও এক কন্যাসন্তানসহ অন্তত ৮৩ জন অভিবাসী মারা গেছেন। তবে ম্যালেনোর উল্লেখ করা ট্রলার এবং উদ্ধার হওয়া ট্রলারটি একই কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এনজিওটি সাধারণত নিখোঁজ অভিবাসীদের পরিবার এবং সরকারি উদ্ধার অভিযানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ করে থাকে। ফলে তাদের দেওয়া নিহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে প্রায়ই বেশি হয়। সালভামেন্তো মারিতিমোর এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, এনজিওর দাবি করা অন্য ভুক্তভোগীদের ‘খুঁজে পাওয়া যায়নি বা উদ্ধার করা যায়নি’। তাই এই মৃত্যুর সংখ্যা তারা নিশ্চিত করতে পারছেন না।
পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের জন্য ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে সাগরের তীব্র স্রোত এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে এই নৌপথ অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচিত হয়।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ক্যানারি দ্বীপে অনুপ্রবেশকারী অভিবাসীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও পরবর্তীতে তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে সমুদ্রপথে দ্বীপে পৌঁছেছেন ৫,১৬৩ জন অভিবাসী, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশ কম।


