স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের আশ্রয় কেন্দ্রগুলো থেকে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী মেয়েদের চাকরি দেওয়ার ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা এবং যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি করার অভিযোগে একটি বড় অপরাধ চক্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্প্যানিশ পুলিশ।
স্পেনের ‘সিভিল গার্ড’ পুলিশ জানিয়েছে, গ্রান ক্যানারিয়ায় কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে থাকা এক অভিবাসী কিশোরী তদন্তকারীদের কাছে অভিযোগ করার পর এই তদন্ত শুরু হয়। ওই মেয়েটি পুলিশকে জানায় যে, ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি চক্র তাকে প্ররোচিত করেছিল।
পুলিশ এই চক্রের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে দ্বীপে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও দুই সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ ছেড়ে পাচার হওয়ার আগেই আরও চারজন কিশোরীকে এই চক্রের কবল থেকে রক্ষা করা হয়েছে।
স্প্যানিশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীরা মূলত সাব-সাহারা অঞ্চলের বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের নাগরিক। ইউরোপে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট পারিবারিক বন্ধন ছিল না, তবে তারা কাজের সন্ধানে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মূল ভূখণ্ড ইউরোপে যেতে অত্যন্ত ব্যাকুল ছিল।
যে মেয়েটি প্রথম এই জঘন্য অপরাধের বিষয়টি পুলিশের নজরে এনেছিল, সে মূলত চক্রটির সরবরাহ করা ভুয়া পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ফ্রান্স হয়ে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে ভ্রমণ করেছিল।
কর্তৃপক্ষ এই গুরুতর অভিযোগের তদন্ত শুরু করে এবং পরবর্তীতে এমন আরও কয়েকটি ঘটনা খুঁজে পায় যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে চলে গিয়েছিল এবং পরে তারা ভুয়া কাগজের সাহায্যে স্পেনের বিভিন্ন শহরের ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধী চক্রটি মূলত এই মেয়েদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েছিল। তারা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ছেড়ে যেতে সহায়তা করার নামে তাঁদের ভুয়া পরিচয়পত্র সরবরাহ করত।
এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, ‘তাদের মধ্যে কেউ কেউ যৌন শোষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’
অভিযুক্ত চক্রটির আস্তানায় তল্লাশি ও অভিযানের সময় কর্মকর্তারা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও তদন্তের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই অভিযান ও গ্রেপ্তারের খবরটি এমন এক সময়ে এলো, যখন গত জুলাইয়ের শেষের দিকে উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় আনুমানিক ৮০ হাজার মানুষের নজিরবিহীন অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি পুরো ইউরোপ জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে এবং ইইউ কর্মকর্তারা আরেকটি অভিবাসী তরঙ্গের আশঙ্কা করছেন।
যদিও সেউতার বেশিরভাগ অভিবাসী ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশ মরক্কোয় ফিরে গেছেন, তবুও সেখানে এখনও কয়েক হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন—যাদের মধ্যে শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু রয়েছে যারা এ ধরনের পাচার ও যৌন শোষণের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মানবাধিকার ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলো এই শিশুরা বড় ধরনের নির্যাতন ও শোষণের শিকার হতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
স্পেনের যুব ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী সিরা রেগো গত ৭ আগস্ট জানিয়েছেন, সেউতায় ১,৩৪২ জন অভিভাবকহীন শিশুকে রেজিস্টার্ড বা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এই ছোট স্প্যানিশ ভূখণ্ডে পর্যাপ্ত সমাজসেবার অভাব থাকায় এই শিশুদের অনেককেই খোলা আকাশের নিচে বা রাস্তায় রাত কাটাতে হচ্ছে।


