ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর ‘ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের দায়ে ১২ কোটি ইউরো জরিমানার মুখে পড়ে অবশেষে সুর নরম করেছেন ইলন মাস্ক। ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র টমাস রেনিয়ারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এক্স(X) প্ল্যাটফর্ম তাদের বহুল বিতর্কিত ইউজার ভেরিফিকেশন বা ব্যবহারকারী যাচাইকরণ পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে।
২০২২ সালে ইলন মাস্ক টুইটার কিনে নেওয়ার পর অর্থের বিনিময়ে ‘ব্লু চেকমার্ক’ দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেন। ইউরোপীয় কমিশন এই পদ্ধতিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিশনের মতে, অর্থের বিনিময়ে যে কেউ ব্লু টিক পাওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের মনে এই ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে যে ওই অ্যাকাউন্টটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বা স্বীকৃত, যা আদতে সত্য নাও হতে পারে।
ব্যবহারকারী বা কর্তৃপক্ষ এক্স(X) প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনদাতাদের কোনো স্বচ্ছ বা হালনাগাদ তালিকা দেখতে পান না। স্বচ্ছ তালিকার অভাবে বিশেষ করে নির্বাচনের সময় বিজ্ঞাপনের অর্থের উৎস এবং দাবির সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা জনমতকে ভুল পথে চালিত করতে পারে।
ইইউ-র এই কঠোর অবস্থান ব্রাসেলস এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই পদক্ষেপকে ‘সেন্সরশিপ’ বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে ইইউ স্পষ্ট জানিয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জরিমানার অর্থ পরিশোধ অথবা আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান করা ছাড়া এক্স(X)-এর সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।


