ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি এখন এক ভয়াবহ কর্মী সংকটের মুখে। দেশটির বর্তমান শ্রমবাজার সচল রাখতে প্রতি বছর অন্তত ৪ লাখ দক্ষ বিদেশি কর্মী প্রয়োজন। আগামী ১০ বছরের মধ্যে জার্মানির প্রায় ২০ শতাংশ কর্মী অবসরে যাচ্ছেন, যা পূরণ করতে প্রতি বছর প্রায় ১৬ লাখ মানুষের অভিবাসনের প্রয়োজন হবে। এই সংকট মোকাবিলায় জার্মানি এখন এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার তরুণদের দিকে নজর দিচ্ছে। সম্প্রতি বার্লিনে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ ও ন্যায়সংগত করতে ‘উই ফেয়ার অ্যালায়েন্স’ নামে একটি নতুন জোটের উদ্বোধন করেছেন উন্নয়নমন্ত্রী রিম আলাবালি রাদোফান।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জার্মানির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওমেক্সন’ ভিয়েতনামের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইভিএন-এর সঙ্গে মিলে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু করেছে। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড এর সহায়তায় ভিয়েতনামের তরুণদের জার্মান মানদণ্ড অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা প্রশিক্ষণ দিয়ে সরাসরি জার্মানিতে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ওমেক্সনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুইদো সাইফেন একে একটি ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে দক্ষ কর্মী ও কোম্পানি—উভয় পক্ষই লাভবান হবে।
তবে জার্মানি আসার পথটি এখনও পুরোপুরি মসৃণ নয়। মিউনিখ অঞ্চলের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এডিথ অটিয়েন্ডে লাওয়ানি সতর্ক করে বলেছেন, অনেক জার্মান কোম্পানি আশা করে যে বিদেশি কর্মীরা এসেই রূপকথার গল্পের মতো সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেবে, যা বাস্তবে কঠিন। এছাড়া অভিবাসন দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ভিসা পেতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো জার্মানিতে নতুন আসা মানুষের চেয়ে বেশি মানুষ দেশটি ছেড়ে চলে গেছেন। প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং অভিবাসীদের প্রতি স্থানীয়দের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে অনেক দক্ষ কর্মী জার্মানি ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানি যদি নিজেকে আকর্ষণীয় রাখতে চায়, তবে কেবল কর্মী আনলেই হবে না, তাদের দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উপযোগী সামাজিক পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।


