ইউরোপে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রগুলোর নেটওয়ার্ক চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে এক শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক কেন্দ্র চালু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশ সংস্থা (ইউরোপোল)। মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে সংস্থার সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘ইউরোপিয়ান সেন্টার এগেইনস্ট মাইগ্রেন্ট স্মাগলিং’ বা ইসিএএমএস নামক এই নতুন ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ইউরোপোলের প্রধান ক্যাথরিন দ্য বোল জানিয়েছেন, অভিবাসী পাচারকে এখন একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ইউরোপ।
ইউরোপোল জানিয়েছে, এই নতুন কেন্দ্রটি মূলত তথ্যভিত্তিক তদন্ত, ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং বিশেষ আর্থিক অনুসন্ধানের ওপর জোর দেবে। পাচারকারীরা অভিবাসীদের কাছ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেয়, সেই আয়ের উৎস ও লেনদেন চিহ্নিত করে তা অনুসরণ করাই হবে ইসিএএমএস-এর অন্যতম প্রধান কাজ। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সরাসরি অপারেশন পরিচালনায় আরও শক্তিশালী ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে। এর ফলে বড় আকারের আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলো ভেঙে দেওয়া অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে, অভিবাসী পাচার এখন আর কেবল নির্দিষ্ট সীমান্ত বা দুর্গম রুটে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি দ্রুত ডিজিটাল পরিসরে বিস্তৃত হচ্ছে। পাচারকারীরা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অভিবাসীদের প্রলুব্ধ করছে এবং যাত্রার সমন্বয় ঘটাচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসিএএমএস-এর অধীনে একটি বিশেষ ‘ডিজিটাল তদন্তকারী দল’ গঠন করা হয়েছে। এই দলটি সার্বক্ষণিকভাবে অনলাইন পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, পাচারকারীদের শনাক্ত এবং তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করার কাজ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যাথরিন দ্য বোল আরও উল্লেখ করেন যে, এই পাচারকারী চক্রগুলোর কারণেই প্রতিনিয়ত সাগরে বা সীমান্তে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। নতুন এই কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে ইউরোপোল তাদের অপারেশনাল, প্রযুক্তিগত ও বিশ্লেষণী সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও প্রাণঘাতী পাচার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।


