যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নেতৃত্বে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আনা বৈপ্লবিক পরিবর্তনগুলো এখন বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘পাঁচ বছরে স্থায়ী বসবাসের’ সুযোগ বন্ধ করে বিতর্কিত ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতি চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আইনি যুদ্ধে নামার ঘোষণা দিয়েছে ‘স্কিলড মাইগ্র্যান্টস অ্যালায়েন্স’ এবং শীর্ষ আইনজীবীদের একটি শক্তিশালী জোট। এর ফলে হোম অফিসের এই নতুন পরিকল্পনা মাসের পর মাস আইনি জটিলতায় আটকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যারা পাঁচ বছরে স্থায়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, তাদের সময়সীমা হঠাৎ বাড়িয়ে ১০ বছর করা হচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে কয়েক বছরে দেশটিতে আসা হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। মানবাধিকার বিষয়ক প্রখ্যাত ব্যারিস্টার সোনালী নায়েক কেসির নেতৃত্বে আইনি সংস্থা কিংসলে ন্যাপলি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রাক-আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। তাদের যুক্তি, যারা নির্দিষ্ট ভিসার শর্ত মেনে এসেছেন, তাদের ক্ষেত্রে হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তন ‘বৈধ প্রত্যাশার’ লঙ্ঘন এবং এটি মানবাধিকারের অনুচ্ছেদ ৮-এর পরিপন্থী।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টে এই ‘জুডিশিয়াল রিভিউ’ সম্পন্ন হতে ৬ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে ১৮ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত যদি এই নীতিতে স্থগিতাদেশ দেয়, তবে সরকারের বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে এবং স্থায়ী বসবাসের হাজার হাজার আবেদন ঝুলে গিয়ে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হবে।
এদিকে ২৬ মার্চ থেকেই ব্রিটিশ সীমান্তে এক ভয়াবহ কঠোর অধ্যায় শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বৈধ অভিবাসনের ‘অপব্যবহার’ রুখতে সরাসরি ‘ভিসা ব্রেক’ কার্যকর করেছেন, যার ফলে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন বা মিয়ানমার থেকে আসা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন এখন সরাসরি ডাস্টবিনে যাবে। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ৫ বছরের স্থায়ীত্বের পথ চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে মাত্র ৩০ মাসের এক অস্থায়ী সুরক্ষার নিয়ম করা হয়েছে। এমনকি ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী পরিবারগুলোকে দেশ ছাড়াতে মাথাপিছু ১০ হাজার পাউন্ডের লোভনীয় ‘ঘুষ’ দেওয়ার মতো নজিরবিহীন পাইলট প্রকল্পও শুরু হয়েছে।
স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রেও এখন পকেটের জোর দেখা হবে—যাদের আয় বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি তারা ৩ বছরে সুযোগ পেলেও, সাধারণ কর্মীদের কাটাতে হতে পারে ১০ থেকে ১৫ বছর। ল ম্যাট্রিক সলিসিটর্সের পার্টনার ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দীন সুমনের মতে, ব্রিটিশ অভিবাসন ইতিহাসে এমন কঠোর সময় আর আগে কখনও আসেনি। সব মিলিয়ে বিলেতে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন এখন কেবল দীর্ঘসূত্রিতা আর আইনি জটিলতার গোলকধাঁধায় বন্দি।


