এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য ধূমপানকে চিরতরে বিদায় জানাল যুক্তরাজ্য। ২০শে এপ্রিল ২০২৬-এ দেশটিতে পাস হওয়া এক ‘ল্যান্ডমার্ক’ বিলে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তারপরে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি তাদের পুরো জীবনে কখনোই বৈধভাবে সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য কিনতে পারবেন না। ব্রিটিশ সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে বিশ্বজুড়ে তামাকবিরোধী আন্দোলনের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন এই আইনের ফলে প্রতি বছর তামাক বিক্রির ন্যূনতম বয়স এক বছর করে বাড়বে। এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রজন্মের জন্য তামাকের বাজারে প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। সিগারেটের পাশাপাশি ভ্যাপ (Vape) এবং হিটেড তামাক পণ্যের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্কুল প্রাঙ্গণ, খেলার মাঠ এবং শিশুদের উপস্থিতিতে গাড়ির ভেতরে ধূমপান বা ভ্যাপিং করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ। ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের গবেষণায় দেখা গেছে, এই নীতির প্রভাবে ২০৭৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের মানুষের সম্মিলিত ‘সুস্থ জীবনকাল’ প্রায় ৮৮,০০০ বছর বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক তামাকবিরোধী লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুক্তরাজ্য এই পথে হেঁটেছে। বেলজিয়াম ও লাটভিয়া যেখানে ডিসপোজেবল ভ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে এবং ফ্রান্স-স্পেন পাবলিক প্লেসে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে, সেখানে যুক্তরাজ্য সরাসরি বিক্রয় নিষিদ্ধের পথ বেছে নিল। সরকারের দাবি, এই আইন ২০৪০-এর দশকের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ধূমপানের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, তামাকের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ৭০ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়, যা ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের এই “আসক্তির চক্র ভাঙার” পদক্ষেপ অন্য দেশগুলোর জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।


