ফিনল্যান্ডে অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে অভিবাসী আইনের বহুল আলোচিত সংশোধনীগুলো চলতি সপ্তাহেই কার্যকর হতে যাচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন এই আইনী সংশোধনীগুলো শুক্রবার (১২ জুন, ২০২৬) থেকে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। এই আইনের ফলে ফিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষের জন্য অপরাধী বা ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশী নাগরিকদের দ্রুত নির্বাসিত (ডিপোর্ট) করা এবং তাদের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অনেক বেশি সহজ হবে। দেশটির রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার স্টাব ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত সংশোধনীগুলো অনুমোদন করেছেন।
নতুন এই সংশোধনীর ফলে নির্বাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি ত্বরান্বিত হবে। আগে নির্বাসন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বহিষ্কার প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যেত, কিন্তু নতুন নিয়মে আপিল করলেও তা আর বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করাকে সহজে থামাতে পারবে না। সিদ্ধান্ত জারির ৩০ দিন পর অর্থাৎ আপিলের জন্য নির্ধারিত আইনি সময়সীমা শেষ হওয়া মাত্রই নির্বাসন সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে বিশেষ অনুরোধের ভিত্তিতে কোনো প্রশাসনিক আদালত চাইলে সাময়িকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োগ নিষিদ্ধ বা স্থগিত করতে পারবে। সেই ক্ষেত্রে আদালত আপিলটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেওয়ার পরপরই সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো বিদেশী নাগরিক যদি কাজ কিংবা পড়াশোনার ভিত্তিতে ফিনল্যান্ডে বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) পেয়ে থাকেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর সেই অনুমতি প্রত্যাহার করা হয় কিংবা তা নবায়ন করা না হয়, তবে তাঁকেও দেশ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে এই সংশোধনীটি ফিনল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থীদের (অ্যাসাইলাম সিকার) ক্ষেত্রে নির্বাসন সিদ্ধান্ত কার্যকর করার বিষয়ে প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তিকে যদি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর বিপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে অপরাধ করার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে আগেভাগে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করার আইনি ক্ষমতা পাবে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারি রান্তানেন এক বিবৃতিতে এই কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “সহজতর স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন, আরও কার্যকর বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তন এবং শক্তিশালী জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারি কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এই আইনগত সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে আমরা ফিনল্যান্ড এবং সমগ্র শেনজেন অঞ্চলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অবদান রাখব।” এই নিষেধাজ্ঞা মূলত জনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টিকারী তৃতীয় দেশের নাগরিকদের (অ-ইইউ নাগরিক) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে সুপরিচিত বা সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফিনল্যান্ড সরকারের জারি করা এই প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কেবল ফিনল্যান্ডেই নয়, বরং সমগ্র ইউরোপীয় শেনজেন এলাকা জুড়েই কার্যকর থাকবে।
তথ্যসূত্র: ওয়াইএলই


