দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের সকল অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নানাবিধ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের এই অধিবেশন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশজুড়ে ‘Employment Exchange Centre’ বা কর্মসংস্থান কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও সরাসরি চাকরি প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। কর্মসংস্থান কেন্দ্রগুলো স্থাপিত হলে সারাদেশে বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস, পর্তুগালসহ ইউরোপের যেসব দেশে দক্ষ কর্মী প্রেরণের বিপুল সুযোগ রয়েছে, অথচ যেসব দেশের কোনো ভিসা সেন্টার বাংলাদেশে নেই তাদের ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থাপনের লক্ষ্যে জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বিদেশে অধিক পরিমাণে দক্ষ কর্মী প্রেরণ আরও সহজতর হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগসহ থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে বাজার সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া থাইল্যান্ড সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।”
এছাড়াও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহকে স্ব-স্ব দেশের চাহিদা নিরূপণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুকরণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত ১৮ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত কাতার-বাংলাদেশ ৭ম জয়েন্ট কমিটির সভায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ কর্মী নিয়োগে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান।
তথ্যসূত্র: নিউজ ২৪


