পর্তুগালের সড়কগুলোতে মোটরযানের বাধ্যতামূলক বীমা না করেই অবাধে চলাচল করছে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার যানবাহন। দেশটির বীমা ও পেনশন তহবিল তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষ (ASF) এবং জননিরাপত্তা পুলিশ (PSP)-এর যৌথ সমীক্ষায় এই উদ্বেগজনক চিত্র ধরা পড়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং পর্তুগালের সড়ক নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় ধরনের কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রকাশিত ‘বীমাবিহীন চালকের প্রোফাইল’ শীর্ষক সমীক্ষা অনুযায়ী, পর্তুগালে বীমা ছাড়া গাড়ি চালানোর একটি ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে এই লঙ্ঘনের গড় হার ছিল ১.৩৩%, যা প্রায় ১,২১,০০০টি যানবাহনের সমান।
পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে গবেষকেরা ধারণা করছেন, বর্তমানে দেশটির রাস্তায় বীমাবিহীন যানবাহনের সম্ভাব্য সংখ্যা ৮৫,০০০ থেকে ১,৩৪,০০০-এর মধ্যে ওঠানামা করছে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, বীমাবিহীন হালকা যাত্রীবাহী গাড়িগুলোই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আর এই ধরনের দুর্ঘটনাগুলো মূলত বেশি ঘটছে জনবহুল ও ব্যস্ত মহাসড়ক এবং শহরতলির এলাকাগুলোতে। এলাকার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে:
লিসবন: ৪২৩টি দুর্ঘটনা
সিন্ট্রা: ২৬২টি দুর্ঘটনা
পোর্তো: ২০৪টি দুর্ঘটনা
কাসকাইস: ১৫৫টি দুর্ঘটনা
দুর্ঘটনা ও আইন লঙ্ঘনের ডাটা বিশ্লেষণ করে মোটর ভেহিকেল গ্যারান্টি ফান্ড (FGA) চালকদের একটি সাধারণ প্রোফাইল তৈরি করেছে। সেখানে দেখা গেছে:
ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ: ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পর্তুগিজ পুরুষদের মধ্যেই বীমা ছাড়া গাড়ি চালানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
দুর্ঘটনার তীব্রতা: নারী চালকদের তুলনায় পুরুষ চালকেরা অনেক বেশি মারাত্মক ও গুরুতর দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন।
দোষী সাব্যস্ত: এই সংক্রান্ত অপরাধের ৯৪.৭% ক্ষেত্রেই পর্তুগিজ চালকেরা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। ২০-৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে যেখানে ১,৪৩৬ জন পুরুষ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, সেখানে নারী চালকদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা মাত্র ৩১১।
বীমাবিহীন গাড়ির কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাথমিকভাবে তার ক্ষতিপূরণ দেয় সরকারি তহবিল ‘মোটর ভেহিকেল গ্যারান্টি ফান্ড’ (FGA)। তবে পরবর্তীতে এই সংস্থাটি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালক বা গাড়ির মালিকের কাছ থেকে পুরো অর্থ আইনগতভাবে আদায় করে।
এএসএফ-এর সভাপতি গ্যাব্রিয়েল বার্নার্দিনো এই বিষয়ে চালকদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান:
“বীমা ছাড়া গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের যেমন বিপন্ন করে, তেমনি দায়ী চালককে চরম আর্থিক পরিণতির মুখোমুখি দাঁড় করায়। গুরুতর দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক এত বেশি হয় যে, তা পরিশোধ করতে গিয়ে একজন চালক এবং তার পুরো পরিবার সম্পূর্ণ দেউলিয়া বা চরম আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।”
চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসের শুরু পর্যন্ত এফজিএ-তে ২,৭০৯টি নতুন ক্ষতিপূরণের দাবি জমা পড়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫% বেশি।
তথ্যসূত্র: এসআইসি নোটিসিয়াস


