একই ছাদের নিচে পৃথিবীর হরেক রকম দেশী-বিদেশী পণ্যের চমৎকার সমাহার। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে শুরু হয়েছে আইবেরীয় উপদ্বীপের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক মেলা— ‘ফিয়া লিসবোয়া’।
লিসবনের বিখ্যাত পার্ক দাস নেছোইসের ‘এফআইএল’ প্রদর্শনী কেন্দ্রে বসেছে চমৎকার এই মেলার জমকালো আসর। গত ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে শুরু হয়ে মেলা চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে রাত ১২টা পর্যন্ত।
এই মেলার প্রধান আকর্ষণই হলো এর বৈচিত্র্য। ‘ফিয়া লিসবোয়া’ এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কোনো বিমানের টিকিট বা পাসপোর্ট ছাড়াই আপনি অনায়াসে ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি থেকে। মেলার আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়নে প্রতিটি দেশের স্টল বা দোকান যেন একেকটি জীবন্ত গল্প। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী প্রযুক্তি আর মেধার মিশেলে, বিশ্বের নামী-দামী কারিগররা এখানে মেলে ধরেছেন তাঁদের সেরা সব সৃষ্টি।
মেলার দোকানগুলোতে পা রাখলেই চোখে পড়বে বিভিন্ন দেশের নিজস্ব সংস্কৃতির সব অনবদ্য স্মারক ও জিনিসপত্র। পর্তুগালের বিখ্যাত কর্ক গাছের চামড়া দিয়ে তৈরি আকর্ষণীয় ব্যাগ, ওয়ালেট কিংবা ঐতিহ্যবাহী পর্তুগিজ হ্যাট থেকে শুরু করে ভারতের বাহারি ও রঙ-বেরঙের পোশাক, ইতালির নান্দনিক গহনা আর সুদূর প্রাচ্যের সুগন্ধি মসলা— কী নেই এখানে! সেই সাথে মেলায় স্থান পেয়েছে মাটির তৈরি নান্দনিক মৃৎশিল্প ও জিভে জল আনা নানা দেশের ঐতিহ্যবাহী সব খাবার। এছাড়াও মেলাটিকে প্রাণবন্ত রাখতে প্রতিদিন এখানে আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষণীয় ওয়ার্কশপ এবং ঐতিহ্যবাহী নাচ-গানের আসর।
মেলায় প্রবেশের জন্য সাধারণ কর্মদিবসে (সোম থেকে বৃহস্পতিবার) প্রবেশ মূল্য বা টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ ইউরো এবং ছুটির দিনে (শুক্র থেকে রবিবার) ১০ ইউরো। তবে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের জন্য টিকিটের দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৬ ইউরো। এছাড়া ছোট শিশুরা এই মেলায় প্রবেশ করতে পারবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে! তবে মেলা কর্তৃপক্ষের কড়া নিয়ম অনুযায়ী, দৃষ্টিহীনদের সাহায্যকারী গাইড কুকুর ছাড়া অন্য কোনো ধরনের পোষা প্রাণী (যেমন বিড়াল বা সাধারণ কুকুর) নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে ঢোকার অনুমতি নেই।
ভৌগোলিক সীমানা যতই দূরে হোক না কেন, মানুষের তৈরি শিল্প, কারুকাজ আর সংস্কৃতি যে পৃথিবীর সব মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে তারই এক অনন্য প্রমাণ লিসবনের এই ‘ফিয়া লিসবোয়া’ মেলা।


