বিশ্বভ্রমণের অবাধ স্বাধীনতা ও কূটনৈতিক সক্ষমতার নিরিখে ২০২৬ সালের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বিশ্বমঞ্চে তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। ইউরোপের গড় সক্ষমতা বর্তমানে ১৮৩টি গন্তব্যে ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক পর্যটন ও বাণিজ্যে ইউরোপীয়দের শক্তিশালী অবস্থানের প্রতিফলন।
ইউরোপের মধ্যে নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড ১৮৫টি গন্তব্যে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে তালিকার ৫ম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রেক্সিট পরবর্তী চ্যালেঞ্জ সামলে যুক্তরাজ্য তার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ১৮৩টি গন্তব্য নিয়ে মালয়েশিয়ার সাথে যৌথভাবে ৭ম স্থানে অবস্থান করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশই শীর্ষ ১০-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে, যা মহাদেশটির নাগরিকদের জন্য বিশ্বজুড়ে চলাচলের এক অনন্য স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।
এশিয়ান দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুর ১৯২টি গন্তব্য নিয়ে টানা কয়েক বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান শক্তি সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৮৭টি গন্তব্য)। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এলেও সিঙ্গাপুর বা জাপানের মতো তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-মুক্ত প্রবেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি।
তালিকায় দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র (১৭৯) শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে গিয়ে ১৪তম অবস্থানে নেমে গেছে, যা অনেক ইউরোপীয় দেশের তুলনায় পিছিয়ে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শক্তিশালী পাসপোর্ট এবং দুর্বল পাসপোর্টের মধ্যে ব্যবধান এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যেখানে ইউরোপের নাগরিকরা অবাধে পৃথিবী ভ্রমণ করছেন, সেখানে অস্থিতিশীল দেশগুলোর পাসপোর্টধারীদের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এই ইনডেক্সটি মূলত একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গভীরতাকেই নির্দেশ করে।
তথ্যসূত্র: ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট


