২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কি শেষ হয়ে গেল? এমন জল্পনা-কল্পনার মাঝেই নতুন আশার আলো দেখালেন পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের নবনিযুক্ত কোচ হোর্হে জেসুস। ৭১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রোনালদো যদি খেলা চালিয়ে যেতে চান, তবে জাতীয় দলে তাঁর ভবিষ্যৎ এখনও ফুরিয়ে যায়নি এবং এই ফরোয়ার্ড দলের জন্য “কখনোই” সমস্যা হবেন না।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কাছে হেরে পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পর পদত্যাগ করেন সাবেক ম্যানেজার রবার্তো মার্টিনেজ। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া জেসুস শুক্রবার তাঁর প্রথম পরিচিতি পর্বে সাংবাদিকদের বলেন, “যতদিন সে (রোনালদো) খেলছে এবং দলে নির্বাচিত হওয়ার মতো অবস্থায় আছে, আমি তাকে দলে নেব। তবে তা অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এবং জাতীয় দলের জন্য আমি যা সর্বোত্তম বলে মনে করি সেই শর্ত সাপেক্ষে।”
হোর্হে জেসুস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রসায়ন বেশ পুরোনো। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমেই সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরকে শিরোপা জেতানোর পর গত মে মাসে ক্লাব ছাড়েন জেসুস। সেখানে এক বছর পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদোকে খুব কাছ থেকে কোচিং করিয়েছেন তিনি।
সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই জেসুস বলেন, “আমি জানি রোনালদো আল-নাসরেই খেলা চালিয়ে যেতে চায়, কারণ সে সবসময় আমাকে বলত—‘আমি আল-নাসরেই আমার ক্যারিয়ার শেষ করব’। গত বছর তাঁর সাথে কাজ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম এবং তাঁর সাথে কাজ করা খুবই সহজ।”
নতুন কোচ এখনও রোনালদোর সাথে সরাসরি কথা বলেননি, তবে খুব শীঘ্রই ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানান। রোনালদোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেসুস বলেন, “ক্রিস পর্তুগিজ ও বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য প্রতীক, যা ইতিহাসের পাতায় চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। সে জাতীয় দলের জন্য বা আমার জন্য কখনোই কোনো সমস্যা তৈরি করবে না।”
উল্লেখ্য, হোর্হে জেসুসকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত পর্তুগাল দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের এই বিশ্বকাপটি পর্তুগাল, স্পেন এবং মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে। ঘরের মাঠের সেই বিশ্বকাপে রোনালদোকে দেখা যাবে কিনা, তা এখন জেসুস ও রোনালদোর মধ্যকার আসন্ন আলোচনার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা


