দশ বছর আগে স্থগিত হওয়া ইইউ সদস্যপদ পাওয়ার আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আইসল্যান্ডের জনগণ। আগামী ২৯ আগস্ট দেশজুড়ে এই ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডত্তিরের মধ্য-বামপন্থী জোট সরকার মনে করছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আইসল্যান্ডের একাকী থাকা আর নিরাপদ নয়।
কেন হঠাৎ এই জরুরি অবস্থা?
গ্রিনল্যান্ড সংকট ও মার্কিন প্রভাব: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার যে প্রচ্ছন্ন হুমকি ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা আইসল্যান্ডকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে।
অর্থনৈতিক ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি: ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান দাম এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় আইসল্যান্ডের নাগরিকরা ইইউ-এর একক বাজারের সুরক্ষা পেতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি ছোট দেশ হিসেবে আইসল্যান্ডের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে।
গণভোটের রূপরেখা ও জনমত:
দ্বৈত নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এই গণভোটটি মূলত ‘আলোচনা পুনরায় শুরু করার’ জন্য। যদি এতে নাগরিকরা সম্মতি দেয়, তবে ব্রাসেলসের সাথে চূড়ান্ত আলোচনা শেষ হওয়ার পর সদস্যপদ গ্রহণের জন্য আরও একটি ‘দ্বিতীয় গণভোট’ অনুষ্ঠিত হবে।
গ্যালাপ জরিপ: সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ৫৭% নাগরিক আলোচনা শুরুর পক্ষে এবং ৩০% বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রধান বাধা: আইসল্যান্ডের মৎস্যজীবী ও কৃষকরা এখনও এই সদস্যপদের বিরোধিতা করছেন। তাদের ভয়, ইইউ-র ‘কমন ফিশারিজ পলিসি’র কারণে উত্তর আটলান্টিকের মাছ ধরার একচ্ছত্র অধিকার হারাবে দেশটি।
ইউরোপীয় কমিশনার মার্তা কোস এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ইইউ সদস্যপদ সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।


